1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
কয়রায় পানির ট্যাংকি বিতরণে জেলা পরিষদের প্রশাসক তালায় জমির বিরোধে বসতঘর ভাংচুর, নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ!  শার্শায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রমরমা মাদক বাণিজ্য, ধ্বংশপ্রায় যুবসমাজকে ঘিরে চিন্তিত সচেতন অভিভাবকরা! ৫ আগষ্টে সাতক্ষীরা কারাগার ভেঙে পালানো দু’ আসামী গ্রেফতার শার্শায় এসএসসি-দাখিলে ফল বিপর্যয়, ৩শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাশ করেনি কেউ! জেলা পরিষদের প্রশাসক বাপ্পীর কয়রায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের স্বপ্ন: কেসিসি প্রশাসক কয়রায় আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালন উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা খুলনায় যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক আজ, আলোচনায় থাকছে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর

শার্শায় এসএসসি-দাখিলে ফল বিপর্যয়, ৩শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাশ করেনি কেউ!

  • প্রকাশিত : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত

আব্দুল মান্নান, শার্শা:


যশোরের শার্শায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজন
শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সবচেয়ে হতাশাজনক ফল এসেছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে। সেখানে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪০ দশমিক ৮৬ শতাংশে। ফল বিপর্যয়ের এমন চিত্রে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শার ৩৩টি মাদরাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ৮১২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৩৭ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩৪২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র তিনজন। দাখিলে সবচেয়ে হতাশাজনক ফল করেছে উপজেলার বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসা ও ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসা।

বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন এবং ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও দুটি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এদিকে বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতের কারণে। বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসায় ১৭ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। আর ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় ২৩ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন নয়জন। এত কমসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকার পরও শতভাগ ফেল করায় প্রতিষ্ঠান দুটির পাঠদান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আপারদিকে,সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। উপজেলার ৩৫টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ২ হাজার ৩০০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ২৬১ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৫০২ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৬ জন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। মাধ্যমিক শিক্ষায়ও একটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল করেছে পরীক্ষার্থীরা। সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাত্র চারজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। চারজনই অকৃতকার্য হয়েছে। অথচ ওই চারজন শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন নয়জন। ফলে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকার পরও কেন একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারল না এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তবে খারাপ ফলাফলের মধ্যেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক ভালো ফল করেছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে শার্শায় সবচেয়ে ভালো ফল করেছে নাভারন বুরুজ বাগান মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন। এবারের ফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নিয়মিত পাঠদান না করা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ও ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার মতো অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় না। পরিচালনা কমিটিতে দলীয় প্রভাব, প্রশাসকনিভাবে পরিচালনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ঘাটতিও শিক্ষার মান কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

তবে শিক্ষকদের দাবি, ফল খারাপ হওয়ার পেছনে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিই অন্যতম কারণ। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না ও শিক্ষার্থীরা মোবাইলের প্রতি আসক্ত হওয়ার কারণও অন্যতম এবং অভিভাবকরাও সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে যথেষ্ট খোঁজখবর রাখেন না। বিষয়টি অভিভাবকদের একাধিকবার জানানো হলেও কাংক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের। তবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফেরানো, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া কিংবা ফলাফল উন্নয়নে বিশেষ কোনো কার্যক্রম নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ.কে.এম. নুরুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি এমপিওভুক্ত হওয়া বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবার আগের বছরের তুলনায় অনেক খারাপ ফল করেছে। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর