- মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকে :
নীলফামারীর সৈয়দপুরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে শ্যামলী সিটি গ্রুপ।
উত্তর জনপদের গেটওয়ে খ্যাত বাণিজ্য প্রধান সৈয়দপুর উপজেলায় গ্রুপটির স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন প্রয়াত শ্যামলী রানী দাস।
বেঁচে থাকা অবস্থায় তাঁরই অনুপ্রেরণায় সমাজে বেকার সমস্যা সমাধানে অসহায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে গড়ে তোলা হয় শ্যামলী সিটি গ্রুপ।
পণ্য উৎপাদনে মালিক – শ্রমিকের মেলবন্ধনের অনন্য নজির স্থাপন করা শ্যামলী সিটি গ্রুপটি গড়ে উঠেছে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায়। প্রায় ২৫ একর জমির ওপরে গড়ে ওঠা গ্রুপটির প্রতিষ্ঠানগুলো হলো রানু এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, শ্যামলী শীট মিলস্ধসঢ়; লিমিটেড, শ্যামলী রুফিং শীট লিমিটেড, সিটি ইস্পাত লিমিটেড ও সিটি ট্রেডার্স লিমিটেড।
এসব প্রতিষ্ঠানে পাঁচ হাজারেরও বেশী পুরুষ ও নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী শ্রমিক রয়েছে।
গ্রপটির অন্যতম প্রতিষ্ঠান রানু এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদিত মানসম্মত পাটজাত পণ্য ভারত, ফিলিপাইন ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়াসহ বিশ্বের ২৫ টি দেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের চাহিদাও পুরণ করছে। এছাড়া সিমেন্ট শীটের ঢেউটিন, ইউপিভিসি রঙিন শীট, বিভিন্ন কালারের ইস্পাতের রঙিন ঢেউটিন উৎপাদন করা হচ্ছে শিল্প গ্রুপটির বিভিন্ন কারখানায়। এসব পণ্য উৎপাদনের ফলে দেশীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষমও হচ্ছে।
গতকাল বুধবার (১৩ মে) প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কারখানায় ঘুরে দেখা গেছে শ্রমিক কর্মচারিদের কর্মব্যস্ততা। কেউ পাটের বস্তা
বানাচ্ছেন,কেউবা পাটের বস্তা কেটে সাজিয়ে রাখছেন। এছাড়া প্রিন্টিংসহ অন্যান্য কাজেও ব্যস্ত রয়েছেন তারা। কথা হয় রানু এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মচারি সালমা (৪৫), শ্যামলী সিমেন্ট শীটের রশিদা (৪২),শ্যামলী রুফিং শীটের আমিনুল (৩৯), সিটি ইস্পাত লিমিটেডের শহিদুল ইসলামের (৩৬) এর সাথে।
তারা বলেন, তাদের মতো সৈয়দপুরসহ আশেপাশের জেলা উপজেলার হাজার হাজার নারী পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। এখানে তারা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তারা বলেন, আমরা যদি কোন সমস্যায় পড়ি তখন কোম্পানির মালিক পক্ষ আমাদের সুবিধা অসুবিধার কথা শোনেন এবং নিয়মানুযায়ী সব সুবিধাও দিয়ে থাকেন।
কারখানার ভিতরে দেখা যায় প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র। সেখানে দেখা মেলে কয়েকজন শ্রমিকের। তারা বলেন, অসুস্থতাবোধ করলে তারা এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য সৈয়দপুর বা রংপুরেও পাঠানো হয় কোম্পানির পক্ষ থেকে।
দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজনে কোম্পানির পক্ষ থেকে শ্রমিক কর্মচারীদের সবধরনের খরচ বহন করা হয়।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শ্রমিক কর্মচারীরা জানান, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই ভালো। বেতন ও উৎসবসহ অন্যান্য ভাতাও নিয়মিত পেয়ে থাকেন।
তারা বলেন, কারখানার অভ্যন্তরে তাদের জন্য নামাজ ঘর রয়েছে। কোম্পানির খরচে রমজান মাসে ইফতার ও রাতের শিফটে সেহেরিরও ব্যবস্থা করা হয় এখানে। এছাড়া নানা ধর্মীয় উৎসবেও মালিকপক্ষ সহযোগিতা করে থাকেন।
শ্যামলী সিটি গ্রুপের অন্যতম পরিচালক সুশান্ত কুমার বলেন, আমার মা স্বর্গীয়া শ্যামলী রানী দাসের কারণে আজ এ অবস্থানে এসেছি। তিনি জীবদ্দশায় বলেছিলেন,কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অসহায় মানুষজনকে সহায়তা করতে। সবসময় নানা পরামর্শও দিতেন। তাঁর ইচ্ছে পূরণেই গড়ে তোলা হয়েছে শ্যামলী সিটি গ্রুপ।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অনন্যা সাহা বলেন, গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রয়াত শ্যামলী রানী দাস। এটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুশীল কুমার দাস।
তিনি বলেন তাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসায়িক মুনাফা নয়, বরং শিল্পায়নের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা। তাই আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানবসেবায় নিয়োজিত রয়েছি। শ্রমিক কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার জানিয়ে তিনি বলেন, একটি শ্রমিকবান্ধব কর্ম পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে শ্রমিক ও কর্মচারী ও কর্মকর্তা সবাই সম্মান এবং নিরাপত্তা ও কল্যাণের নিশ্চয়তা পান।