- আক্তারুল ইসলাম ::
দুর্নীতি, অনিয়ম ও খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের অপসারণ দাবি করেছেন জেলার নারী খেলোয়াড়েরা।মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নারী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কয়েকজন পুরুষ খেলোয়াড়ও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
মানববন্ধনে খেলোয়াড়দের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন ক্রীড়া সংগঠক ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তির বাবা খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স। এ ছাড়া বক্তব্য দেন খেলোয়াড় উম্মে ফাতেমা উর্মি, সোহেলী আক্তার শামীমা, সালমা খাতুন, নদী বিশ্বাস, মেহেদী রাজু প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দকৃত প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী, জার্সি ও অনুদান সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় না। প্রকৃত খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে অফিসের কর্মচারী কিংবা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নামে অনুদান দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
নারী খেলোয়াড়েরা বলেন, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে এবং কষ্ট করে বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁরা নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে তাঁরা প্রয়োজনীয় কোনো সহযোগিতা তো পাচ্ছেনই না, উল্টো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় পর্যায়ে সাতক্ষীরার সুনাম বয়ে আনছি। অথচ আমাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়মে অভিযুক্ত জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ এবং একজন সৎ, দক্ষ ও খেলোয়াড়বান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, “সাতক্ষীরা জেলা থেকে জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তির জন্য ১১৪ জন আবেদন করেছিলেন। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৮ জনের তালিকা জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনে পাঠানো হয়। পরে জাতীয় কমিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে ৪৩ জনকে ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, ভাতা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই কিছু খেলোয়াড় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। তবে এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু করার ছিল না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় কমিটিই নিয়েছে।”
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।