- আক্তারুল ইসলাম ::
সাতক্ষীরায় ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপসহ আটক দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. সরোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সোমবার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটার দিকে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে ঐ দুই পুলিশ সদস্যকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্য হলেন- সিপাহী মোস্তাইন বিল্লাহ এবং সিপাহী নাজমুল ইসলাম। মোস্তাইন বিল্লাহ সাতক্ষীরা পুলিশের এসএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। নাজমুল ইসলাম ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
মোস্তাইন বিল্লাহ (৩০) খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার পানতিতা গ্রামের অহিদ মোল্লার ছেলে ও নাজমুল হোসেন (২৮) মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার ভাতুয়াডাঙা গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ মৃধার ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সিপাহী মোস্তাইন বিল্লাহ ও সিপাহী নাজমুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের বকচরা মোড়ের পাশে আসাদুলের চায়ের দোকানের সামনে থেকে একটি ওয়ানটেষ্ট এ্যাপাচি মোটর সাইকেল ও ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপসহ তাদেরকে আটক করে। এরমধ্যে দুই বোতল সিরাপ মোস্তাইন বিল্লাহর জ্যাকেটের পকেটে ও ৫৪ বোতল মোটর সাইকেলের হুকে ঝোলানো একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ছিল।
পুলিশের দাবি, মোস্তাইন বিল্লাহ ও নাজমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউস মোড় এলাকার একটি দোকানে বসে মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মোস্তাইন বিল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে তা বিক্রির অভিযোগের কথা উঠে আসে। সার্কিট হাউস মোড় থেকে কাঁচাবাজার পার হয়ে বাইপাস সড়কের পাশে একটি চা ও ক্যারাম খেলার দোকানে বসে মোস্তাইন বিল্লাহ ইয়াবা, কোরেক্স ও গাঁজা বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে দোকানের মালিক তাইফুর তাকে সহযোগিতা করতেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক সরোয়ার হোসেন বাদি হয়ে মোস্তাইন বিল্লাহ ও নাজুলের নাম উল্লেখ করে সোমবার রাতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার ধারা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ১৬(১) সারণির ১৪(গ)/৪১ তারিখ ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। গ্রেপ্তারকৃতদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।