- সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি ::
নীলফামারীর সৈয়দপুরে মসজিদের নামে ওয়াকফ করা জমি দখলে বাধা দেয়ায় মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি পরিবার পেশীশক্তি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ওই হয়রানি করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের কাছে প্রতিকার কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের উত্তর সোনাখুলী ডাঙ্গাপাড়ার মসজিদ বায়তুস সালাম মসজিদের (ভাঙ্গা মসজিদ) নামে হাজী মনসুর আলীর ছেলে মানিকুজ্জামান মানিক ৫০ শতক জমি ওয়াকফ করে দেন।
জমিদাতা তাঁর বাবার কাছ থেকে ২০২৪ সালে জমিটি ক্রয় করেন। এর আগে ১৯৮৪ সালে জমিটি ক্রয় করেন হাজী মনসুর আলী তাঁর বড় ভাই মকবুল হোসেনের কাছ থেকে।
সংবাদ সম্মেলন আরও বলা হয়, গত ১৫ মে মসজিদের উন্নয়নে কমিটির লোকজন আবাদের জন্য জমি চাষ দেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু মকবুল হোসেন ও তার ছেলেরা এতে বাধা দিয়ে জমিটি তাদের বলে দাবি করেন। ফলে উভয় পক্ষের বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে মকবুল হোসেন ও তার ছেলেরা নিজ বাড়িতে আগুন দেয়। পরে আগুনের ঘটনা কমিটির লোকজন ও এলাকাবাসীর ওপর দোষ চাপায়।
এনিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ বিষয়টি অবগত থাকায় ওই মিথ্যা অভিযোগ নেয়নি। পরে তারা আদালতে মামলা দায়ের করেন মসজিদের সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম অভিযোগে বলেন, আমরা জমির দাবিদার মকবুল হোসেনকে বলেছি আদালতের রায়ে জমি যদি তারা পায়, তাহলে মসজিদ কমিটি জমির দখল ছেড়ে দেবে। কিন্তু তাতে তাঁরা রাজি না হয়ে উল্টো পেশীশক্তি দেখিয়ে জমি জবর দখল করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, এতে বাধা দেওয়ায় একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে, যে জমির দখলে যাবে তাকে মেরে ফেলবে। নয়তো নিজেরাই আহত হয়ে আরও মামলা দিয়ে জেলের ভাত খাওয়ানো হবে। আমরা ওই পরিবারের হুমকি ও মিথ্যা মামলা করার অপ-তৎপরতার বিচার এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এসময় মসজিদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার ও জামায়াত নেতা খলিলুর রহমান, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি জহির উদ্দিন লাল্টু, সহ-সভাপতি তাজির উদ্দিন ভুট্টু, জমিদাতার বাবা হাজী মনসুর আলী সহ এলাকার বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ।