- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
পাইকগাছার হরিঢালী ইউনিয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সৃষ্ট পদে কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধাংশু শেখর মন্ডলের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্নসাতের অভিযোগে অনলাইন দৈনিক দীপ্তনিউজ২৪.কম সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশে প্রথম দিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও সর্বশেষ সাংবাদিকসহ প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করতে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন অভিযুক্ত সুধাংশু মন্ডল। ইতোমধ্যে তিনি একটি আঞ্চলিক দৈনিকে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দিয়েছেন।
প্রতিবাদে তিনি নিজেকে অত্যন্ত ও ন্যায়নীতি পরায়ন উল্লেখ করে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত কাজের সুনাম ক্ষুন্ন করে বস্তুনিষ্ঠহীন ও ভূয়া খবর পত্রিকায় সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। এতে তিনি আরোও উল্লেখ করেছেন যে, শতভাগ সরকারি বিধি মোতাবেক কয়েকজন কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রাক্কালে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

প্রকৃত পক্ষে হরিঢালী ইউনিয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জনবল কাঠামো ও এমপিও নিতিমালা/২০২১ অনুসারে সৃষ্টপদে যথাক্রমে নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক প্রতিটি পদে একজন করে এবং নিরাপত্তা কর্মী পদে একজন সহ মোট ৪ জন কর্মচারী পদে লোক নিয়োগের জন্য গত ১২/১০/২০২৩ তারিখে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায় পূন:নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ৫ শত টাকার পোস্টাল অর্ডারসহ প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর আবেদন করতে বলা হয়। সে অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে। অর্থাৎ ১২/০৪/২০২৪ ইং এরমধ্যে পরীক্ষা হওয়ার বৈধতা ছিল। আর সরকার পতন হয় ৫ আগস্ট অর্থাৎ আরোও প্রায় ৪ মাস পূর্বে বিজ্ঞপ্তির মেয়াদ শেষ হয়। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে নিয়োগ দিতে তার ফের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো সরকার পতনকে দোষারোপ করছেন। অর্থাৎ তিনি এখনও ফ্যাসিবাদকে মনেপ্রাণে লালন করছেন বলে প্রতীয়মান হয়।
এদিকে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়েও চাকুরি না পাওয়া এমনকি নিয়োগ পরীক্ষা পর্যন্ত না হওয়ায় প্রতারিত ও ঋণের জালে জর্জরিত হতাশ প্রিয়াংকা স্বামীকে সাথে নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হরিঢারী ইউনিয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্টু তদন্তপূর্বক চাকুরীর জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধাংশু মন্ডলকে দেওযা টাকা আদায় ও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
এরও আগে তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইন দৈনিক দীপ্ত নিউজ২৪.কম সহ বিভিন্ন পত্রিকায় তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
লিখিত অভিযোগে প্রতারণার শিকার চাকুরি প্রার্থী প্রিয়াংকা মল্লিক জানান, উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জনবল কাঠামো ও এমপিও নিতিমালা/২০২১ অনুসারে সৃষ্টপদে যথাক্রমে নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক প্রতিটি পদে একজন করে এবং নিরাপত্তা কর্মী পদে একজন সহ মোট ৪ জন কর্মচারী পদে লোক নিয়োগের জন্য গত ১২/১০/২০২৩ তারিখে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায় পূন:নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ৫ শত টাকার পোস্টাল অর্ডারসহ প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর আবেদন করতে বলা হয় ঐ বিজ্ঞপ্তিতে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধাংশু শেখর মন্ডল পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে পরীক্ষার আগেই তার কাছ থেকে ৪ কিস্তিতে ১১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা গ্রহন করেন। তবে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলেও পরীক্ষা গ্রহন করতে না পারায় সুধাংশুকে দেওয়া টাকা ফেরৎ চান। প্রথমত পরীক্ষা গ্রহনে নানা টালবাহানা ও পরে টাকা দিতে অস্বীকার এমনকি সেসব টাকা ঐসময় তিনি সাবেক এমপিসহ বিভিন্ন জনকে প্রদান করেছেন মর্মে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমত সাংবাদিক ও পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ঐ লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধাংশু শেখর মন্ডল সাংবাদিকদের জানান, তিনি তিন কিস্তিতে প্রিয়াংকার স্বামী তীর্থ মন্ডলের কাছ থেকে মোট ৯ লক্ষ ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তবে সেসব টাকা তিনি সাবেক এমপি ও তার এক নিকটাত্নীয়কে প্রদান করেন। এমনকি সাবেক ঐ এমপি বর্তমানে কারন্তরীন থাকায় তিনি তাকে প্রদেয় টাকা ফেরৎ চাইতে পারছেননা। তবে নিকটাত্নীয়কে দেওয়া টাকা আদায়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে দাবি করলেও তিনি তার স্বপক্ষে কোন প্রমান দেখাতে পারেননি। যার অডিও রেকর্ডিং সংবাদকর্মীদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
যদিও প্রতিবাদলিপিতে অভিযুক্ত শিক্ষক সুধাংশু মেখর মন্ডল নিয়োগের ব্যাপারে তখনকার এমপি টাকা গ্রহন করেন কি না করেন সেটা ছিল তার ব্যাপার, এখানে তার কোন কতৃত্ব ছিলনা বলে দাবি করেন। যা তার আগের রেকর্ডকৃত বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক।
তার প্রতারণার শিকার প্রিয়াংকাসহ সচেতন এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থাগ্রহনের জন্য যথাযথ কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।