1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
নতুন ভবন তালাবদ্ধ , ডুমুরিয়ায় স: প্রা: বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান ২৫ বছর পর নয়নের খালে প্রাণ, পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের উদ্বোধন  তালায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, হামলা গৃহবধু ও তার ১৪ মাস বয়সী শিশু কন্যা আহত সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নিখোঁজ ৪ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার কয়রায় বিএনপি নেতাকে ফাঁসাতে মৎস্য ঘেরে আগুন, প্রতিবাদে ঘের মালিকের সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় ব্যাঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে অবৈধ আইসক্রিম ফ্যাক্টরি, জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে খুলনায় এক গ্রাম, এক শিল্প বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত কয়রার তরুন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলমগীর বেনাপোল কাস্টমসের জব্দ কোটি টাকার পণ্য গায়েব, কর্মকর্তাসহ ১৮ জনের নামে মামলা অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর স্মরণে মিশিগানে দোয়া মাহফিল

সুন্দরবনে বেড়েছে বাঘের সংখ্যা, নানা সংকটে ঘোষণা করা যায়নি শুমারির ফলাফল

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০২৪
  • ৯২ বার পঠিত
camera-traping-9639
সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে শুমারীর ফলাফল আগস্টে

শেখ দীন মাহমুদ ::


সর্বশেষ শুমারিতে বাঘের সংখ্যা বাড়ার আভাস মিললেও সোমবার ২৯ জুলাই পালিত বিশ্ব বাঘ দিবসে এর ফলাফল ঘোষণা করতে পারেনি বনবিভাগসহ এর সাথে সংশ্লিষ্টরা। বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা এবং এই প্রাণী সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ২৯ জুলাই দিবসটি পালন করা হয়।

২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ অভিবর্তনে এ দিবসটির সূচনা হয়। প্রাণিবিদরা বাঘকে বিড়ালজাতীয় বা ক্যাট গ্রুপের প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করেন। আমাদের চেনা বাঘের কেতাবি নাম ‘প্যান্থেরা টাইগ্রিস’। একসময় পৃথিবীতে বাঘের ৯টি উপপ্রজাতি ছিল। বর্তমানে টিকে আছে ছয়টি। সুন্দরবনের বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম ‘প্যান্থেরা টাইগ্রিস’। গাঢ় ডোরাকাটা দাগ এর অনন্য বৈশিষ্ট্য।

২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম বাঘ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিজ নিজ দেশে বাঘের সংখ্যা ১২ বছরের মধ্যেদ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছিল। এরমধ্যে নেপাল বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে। ভারত এবং ভুটানও দ্বিগুণের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও সে লক্ষ্য থেকে দূরে আছে।

দিবসটির এবারের মূল আকর্ষণ ছিল বাঘশুমারির ফলাফল প্রকাশ। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও কারফিউর কারণে সব কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ফল ঘোষণা করা হবে বলে দাবি বন কর্মকর্তাদের।

শুমারীর প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ জরিপে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির আভাস মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় গত বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে সাতক্ষীরা ও খুলনা রেঞ্জে শুমারি হয়। প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের প্রথম দিকে সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জেও একই পদ্ধতিতে শুমারি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের হাড়বাড়িয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে বাঘ গণনার জরিপ কাজের উদ্বোধন করেন সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার।

৪০ দিন ধরে প্রতিটি রেঞ্জের ১৪৫টি পয়েন্টে দুটি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। প্রকল্পে মোট ১২১৬ টি ক্যামেরা নিয়ে ৪৫ জনের একটি গবেষণা টিম বাঘ গণনার কাজ সম্পন্ন করে। এ ছাড়া সুন্দরবনে খাল সার্ভের মাধ্যমে বাঘের পায়ের ছাপ সংগ্রহ করা হয়। প্রায় চার মাস আগে সম্পন্ন হয়েছে শুমারির মাঠ পর্যায়ের কাজ।

বন বিভাগের তথ্যে জানা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৩৫০টি। এরপর ১৯৮২ সালে জরিপে ৪২৫টি এবং এর দুই বছর পর ১৯৮৪ সালে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়। ২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে দাঁড়ায় ১০৬টি। হঠাৎ করে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৪০০টি থেকে ১০৬টিতে এসে দাঁড়ালে সারা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। ২০১৮ সালের সর্বশেষ বাঘশুমারিতে সুন্দরবনে ১০৬ থেকে বেড়ে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।

প্রাণী ও পরিবেশবাদীদের মতে, বাঘ সারা বিশ্বে একটি বিপন্ন প্রাণী। তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের ১৩টি দেশে তিন হাজার ৮৪০টি বাঘ প্রকৃতিতে রয়েছে।

বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প পরিচালক ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, শুমারীতে বাঘের প্রায় সাড়ে সাত হাজার ছবি পাওয়া গেছে। এরমধ্যে একই বাঘের ছবি পাওয়া গেছে বহুবার। এজন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতিটি বাঘের ‘ইউনিক আইডি’ করা হয়েছে। এসব ছবি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। তারা সেগুলো বিশ্লেষণ করছেন।

সাম্প্রতিক আন্দোলন কেন্দ্রীক জটিলতায় বেশ কিছুদিন ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় গণনার কাজ শেষ করা যায়নি। মেইলে তথ্য আদান প্রদান কিংবা সংশ্লিষ্টদের পরষ্পর অনলাইন ভিত্তিক জুম মিটিং করতে না পারার কারণে বাঘ দিবসে বাঘশুমারির ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আগস্টের ১৫ তারিখের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা যাবে। তিনি আরও বলেন,‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং’ পদ্ধতিতে বাঘ গণনা করা হয়েছে। ১২১৬ টি ক্যামেরা নিয়ে প্রায় ৪৫ জনের একটি গবেষণা টিম বাঘ গণনার কাজ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে লবণাক্ত এলাকা থেকে যে এলাকায় লবণ কম সেখানে বাঘের ছবি অনেক বেশি পেয়েছি। গত দুটি জরিপে খুলনা রেঞ্জে বাঘের ছবি কম ছিল, কিন্তু এবারের জরিপে খুলনা রেঞ্জে প্রচুর বাঘের ছবি পেয়েছি। যেটা সুন্দরবনের মোট বাঘের সংখ্যায়ও ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।

তিনি বলেন, ২৯ জুলাই এবারের বাঘ দিবসে শুমারির তথ্য প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু কোটা আন্দোলন ও কারফিউর কারণে সব কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। সেজন্য আগামী মাসে ফল ঘোষণা করা হবে।

বন বিভাগ জানায়, এর আগে ২০১৮ সালে ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে করা শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪। এবার এই সংখ্যা বাড়বে বলেও ধারণা করছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সারা পৃথিবীতে এখন বাঘের যত উপপ্রজাতি রয়েছে, তাদের মধ্যে সুন্দরবনের বাঘ তুলনায় ছোট। স্বাভাবিকভাবে এর ওজনও কম। সুন্দরবনের স্ত্রীজাতীয় বাঘের গড় ওজন ৭৫ থেকে ৮০ কেজি। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে পাওয়া স্ত্রী বাঘের গড় ওজন ১৩৫ থেকে ১৪০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

প্রসঙ্গত, সুন্দরবনে প্রথম পাগমার্ক পদ্ধতিতে বাঘ জরিপের কাজ শুরু হয় ২০১৩-১৪ সালে। সেই জরিপে সুন্দরবনে মোট ১০৬টি বাঘের অস্তিত্ব ছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর