1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
কয়রায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন পাইকগাছায় লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত বেনাপোলে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হাকর নদীটি প্রভাবশালীদের দখলে মাছ চাষ করছে ভেড়িবাঁধ দিয়ে কয়রায় মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটিতে আ’লীগ নেতার স্ত্রী সভাপতি, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় প্রাথমিকের ফিডিং কর্মসূচী মিড ডে মিলে’র খাদ্য অনিয়মের প্রমান পেয়েছে কতৃপক্ষ, ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ সাংবাদিকের ভাইয়ের মুত্যুতে কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের শোক ডুমুরিয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি সভা খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ থাকায় ১৭ বছর সংস্কার হয়নি ছাত্রী নিবাস মুন্সীগঞ্জে শ্রীনগরে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ৭

ভয়াবহ হয়ে উঠেছে সৈয়দপুরের যানজট, পরিস্থিতি নিয়ে পৌর প্রশাসকের মতবিনিময়

  • প্রকাশিত : শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৪
  • ৭৬ বার পঠিত
saidpur-10559

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর::


সৈয়দপুরে দিনের পর দিন ভয়াবহ হয়ে ওঠা যানজট পিছু ছাড়ছে না শহরবাসীর। যানজটের কারণে মানুষজনের ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। এতে একদিকে যেমন তাদের কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে, তেমনি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়ছেন তারা। এ যন্ত্রণা থেকে রেহাই দিতে স্বেচ্ছাসেবীদেরও ট্রাফিক বিভাগকে সহযোগিতা করতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কোন লাভ হচ্ছেনা। অসহনীয় যানজটে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, অফিস পাড়ার কর্মকর্তা কর্মচারিসহ আটকা পড়ছে বিমান যাত্রীরাও। এতে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে তাদের গন্তব্যে যেতে পারছেনা।

যানজট প্রসঙ্গে ট্রাফিক বিভাগের দাবি শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে যানবাহন চালকরা ট্রাফিক আইন না মানায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে শহরের যানজট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সৈয়দপুরে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় করেছেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নুর ই-আলম-সিদ্দিকী। গত ১ অক্টোবর সৈয়দপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিএনপি- জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ, ট্রাফিক বিভাগ, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও সুধিজনেরা অংশ নেন।

সুত্র জানায় ভৌগলিক কারণে ব্যবসা বাণিজ্যের দিক থেকে উত্তরাঞ্চলের গেটওয়ে সৈয়দপুর শহরটির গুরুত্ব অনেক বেশি । এছাড়া আশেপাশে জেলা উপজেলার লোকজন কেনাকাটা ও তাদের ব্যবসার স্বার্থে এ শহরের উপর অনেকটা নির্ভরশীল। ফলে সূর্যের আলো ফোটার সাথে সাথে যানবাহনসহ মানুষজনের ভীড় বাড়তে থাকে এখানে। এ অবস্থা থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। সুত্রটি জানায়, কিছুদিন আগেও শহরের যানজট পরিস্থিতি সহনীয় থাকলেও এখন আর তা নেই।

এ অবস্থায় শহরবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ। সচেতনমহলের অভিযোগ জ্যামিতিক হারে দিনের পর দিন যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে যানজট নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়নি পরিকল্পিত ব্যবস্থা। এমনকি সড়কগুলোকে আনা হয়নি ওয়ানওয়ে ব্যবস্থার আওতায়।

এছাড়া শহরে ৮০ মিটার ব্যবধানে দুইটি রেল ক্রসিং অতিক্রম করে প্রতিদিন আন্তঃনগরসহ ৮টি ট্রেন চলাচল করছে। অন্যদিকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়মিত ১২ টি বিমান উঠানামা করছে। ফলে ট্রেন ও বিমান যাত্রীদের বহনকরা যানবাহন ছাড়াও আশেপাশের জেলা উপজেলার ব্যক্তিগত যানবাহন প্রবেশ এবং সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা না মেনে শহরে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তার ওপর রয়েছে রিক্সা, অটোরিকশা ও রিক্সাভ্যানের বাড়তি চাপ। সচেতন সমাজের মতে নির্ধারিত সময়ের আগে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা না মানা এবং ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, রিক্সাভ্যান চালকরা ট্রাফিক আইন না মেনে চলাচলের কারণে যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করে শহরে প্রধান প্রধান সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সার্বক্ষণিক অটোরিকশা, ভ্যান দাড় করিয়ে রাখছে। ফলে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় যানজট বাড়ছে বলে ধারণা শহরবাসীর।

শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তোফায়েল মোহাম্মদ আজম বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশাভ্যানের জটলার কারণে সবসময় যানজট লেগেই থাকছে। অটোরিকশা ও রিক্সাভ্যানগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে না পারলে কোনভাবেই শহরকে যানজট মুক্ত করা যাবেনা বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি।

সূত্র জানায়, সৈয়দপুর পৌরসভার লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাড়ে ৬ হাজার অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান থাকলেও শহরে চলাচল করছে প্রায় ১২/১৩ হাজার যানবাহন। ফলে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হচ্ছে।

এসব কারণে যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সৈয়দপুর ট্রাফিক বিভাগের শহর ও যানবহন পরিদর্শক (টি আই) মাহফুজুর আলম। তিনি বলেন , যানজট ও রাস্তার শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা ট্রাফিক পুলিশের ১৩ জন সদস্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি। তবে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, রিকশাভ্যান চালকরা কোন নিয়মই মানছে না। তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এবং উল্টো পথে ঢুকে পড়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে। এছাড়া যাত্রীর অপেক্ষায় এসব যানবাহন সড়কের ওপর যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট বাঁধছে বলে তিনি জানান।

তবে যানজট নিরসনে বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগকে আরও সচেতন হওয়ার কথা বলছেন নাগরিক সমাজ। ব্যবসায়ী আরমান হোসেন, আনোয়ার হোসেন হাবলু, স্কুল শিক্ষক সাহিদ হোসেনসহ অনেকেই বলেন, শহরের বেশিরভাগ সড়কের একাংশ ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। তিনি বলেন, কিছু ব্যবসায়ী দোকানকে গোডাউন বানিয়ে সড়কে মালামাল রেখে চুটিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কিছু দোকানদার অর্থের লোভে দোকানের সামনের রাস্তার অংশ ভাড়া দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতিদিন ৩ শ থেকে ৪ শ টাকা আদায় করে বাড়তি আয় করছে।

এমনকি পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাতও দখল করে রেখেছেন ওইসব ব্যবসায়ীরা। ফলে মানুষজন সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করায় যানবাহনের গতি কমছে। এতে একদিকে যেমন মানুষের কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে তেমনি যানজটে যানবাহনের জ্বালানি পুড়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে তাদের। তাই সবার আগে শহরের সড়কের ওপর বাড়তি দোকান উছেদ এবং ফুটপাত দখল মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা। এসব বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকবে, ‘ বলেন তারা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, ক্যান্টনমেন্ট সড়ক এবং শহীদ ডা. শামসুল হক রোডের মোড় হতে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত অনেক দোকানির মালামাল রাস্তায় রাখা হয়েছে। ফলে রাস্তার প্রশস্ততা কমে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। শহরের ফুটপাতগুলোও দেখা গেছে দোকানিদের দখলে।

এদিকে শহরের যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়ে গত ১ অক্টোবর সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-ই-আলম-সিদ্দিকীর আহবানে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফইম উদ্দিন, ট্রাফিক বিভাগের শহর ও যানবাহন পরিদর্শক (টিআই) মাহফুজুর আলম,পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর শাহীন আকতার শাহীন, পৌর বিএনপির সভাপতি রশিদুল হক সরকার, উপজলা জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাজহারুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাকির হোসেন বাদল, সাংবাদিক জসিম উদ্দিন, ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেনসহ বিএনপি, জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, সাবেক পৌর কাউন্সিলর, সুধিজন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

সভায় শহরের যানজট পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে তা থেকে উত্তরণে বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরেন বক্তারা। বক্তাদের পরামর্শ বিশ্লেষণ করে খুব শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পৌরসভার সুত্রে জানা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর