মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর::
বাজারে যখন সবধরণের নিত্যপণ্যের মূল্য পাগলা ঘোড়ার মত দৌড়াচ্ছে, ঠিক তখনি ৬১০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি শুরু করায় ক্রেতাদের মাঝে সাড়া ফেললেন বাদশা মিয়া।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত্বদের কথা চিন্তা করে কম দামে তাঁর নিজের দোকানে মাংস বিক্রি শুরু করেছেন তিনি। ফলে
৬১০ টাকায় গরুর মাংস কিনতে তার দোকানে ভীড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা।
গত ৬ অক্টোবর থেকে সৈয়দপুর শহরের উপকন্ঠ সৈয়দপুর -নীলফামারী আঞ্চলিক মহাসড়কের কোল ঘেঁষে ঢেলাপীর এলাকায় ওই বাদশা গোস্ত ভান্ডার নামক দোকান উদ্বোধন করা হয়। ওইদিন থেকে কম দামে মাংস বিক্রির সংবাদে গোটা এলাকায় আলোচনা চলছে।
বাদশা মিয়া জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতিটি নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষজনের নাভিশ্বাস উঠেছে। ইচ্ছে থাকলেও মাংসের কথাও
চিন্তা করতে পারেন তারা। এ জন্যই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত্ব আয়ের মানুষজনের বিষয়টি মাথায় রেখে গরুর মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার উদ্দেশ্য হলো মানুষ যাতে তাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক টুকরো মাংস খেতে পারেন। এসব কারণে সৈয়দপুরের বর্তমান বাজার দরের চাইতে সহনীয় দামে মাংস বিক্রি শুরু করা হয়। এক কেজি বা আধা কেজি মাংস কিনতে কারও কাছে ৫/১০ টাকা কম থাকলেও ক্রেতাকে ফেরত পাঠান না তিনি। ৬১০ টাকায় এক কেজি গরুর মাংস,এমন খবরে প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সববয়সী বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ব্যাগ হাতে নিয়ে ভিড় করছেন তাঁর দোকানে। যে যার সাধ্য মতো কেউ এক কেজি , কেউবা দুই কেজি মাংস কিনছেন। দামে কম হওয়ায় এদের মধ্যে আবার অনেকেই ৫/১০ কেজি মাংস খরিদ করছেন।
ওই দোকানে মাংস কিনতে যান ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক বাপ্পি (৩০)। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, শহরে বিভিন্ন দোকানে ৬৭০/৭০০ কেজি দরে মাংস বিক্রি করা হয়। কিন্তু এখানে মাত্র ৬১০ টাকায় এক কেজি মাংস কিনলাম।
পূর্ব বোতলাগাড়ির বাসিন্দা আজিজুল (৬২) বলেন, বাজারে আজকাল ৬৭০/৬৭০ টাকার নিচে মাংসই পাওয়া যায়না। সেখানে বাদশা গোস্ত ভান্ডার দিচ্ছে মাত্র ৬১০ টাকা কেজি দরে। তাই তিন কেজি মাংস কিনলাম এখান থেকে। এতে আমার প্রায় ২০০ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
গত শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিল শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আমিনুল ইসলামের। তাই দামে কম হওয়ায় সকালে বাদশা মিয়ার দোকান থেকে ৬ কেজি মাংস কিনলাম। এতে তাঁর প্রায় সাড়ে পাঁচশত টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
তিনি বলেন শহরে যদি মাংস কিনতাম, তাহলে ওই পরিমাণ টাকা সাশ্রয় হতোনা। মাংস কিনতে আসা স্বেচ্ছাসেবী রফিক মিয়া (৩৬) জানান, দুই কেজি মাংস নিয়েছি ৬১০ টাকা কেজি দরে। অথচ এটি সৈয়দপুর বাজার থেকে নিলে ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি নিত। তার উপরে পর্যাপ্ত হাড় ও চর্বিতো থাকতোই। কিন্তু এখানে হাড় চর্বি থাকলেও তা সহনীয়।
অনেক সময় জবাই করা গরু সুস্থ না অসুস্থ, তা নিয়ে থাকতাম সংশয়ে। কিন্তু বাদশাহ গোস্ত ভান্ডারে সে সংশয় নেই। গোলাহাটের বাসিন্দা মাবুল হোসেন (৩৪) বলেন, দামে কম হওয়ায় অনেকদিন পর আজ এক কেজি মাংস কিনেছি। আধা কেজি মাংস কিনে বাড়ি ফিরছিলেন উত্তরা আবাসনের আসমা খাতুন (৫৫) বেওয়া। তিনি জানান, কম দামে পেয়ে আজ অনেকদিন পর আধা কেজি নিয়ে যাচ্ছি।
বাদশা গোস্ত ভান্ডারের কর্মচারিরা জানান, প্রতিদিন নিম্নে তিনটি করে গরু জবাই করা হচ্ছে।
ক্রেতারা জানান, যেখানে সৈয়দপুর শহর ছাড়াও গ্রামাঞ্চলের হাটেবাজারে গরুর মাংস ৬৭০ থেকে ৭০০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে সেখানে পেশাদার মাংস ব্যবসায়ী না হয়েও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত্ব মানুষদের কথা চিন্তা করে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় বাদশা মিয়া মহত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
শনিবার সরেজমিনে সেখানে দেখা যায়, দোকানের সামনে গরু জবাইের পর সেখানেই যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোকানে তোলা হচ্ছে। মানুষজনও এসে তাঁর সাধ্যমত করে মাংস খরিদ করে নিয়ে যাচ্ছেন। কলিজা, মাথার মাংস,ভুড়িও বাজার মূল্যের চাইতে কম
দামে বিক্রি করা হচ্ছে এখানে।