সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে সুরা সদস্য ও নীলফামারী জেলার নায়েবে আমীর ড. হাফেজ খায়রুল আনাম বলেছেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সংঘটিত নারকীয় লগি-বৈঠার তান্ডবে নিহত ৬ শহীদসহ ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ঘটনায় দেড় সহস্রাধিক মানুষকে হত্যার দায়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া হাসিনার তৈরী করা আদালতেই তার বিচার করা হবে। একইসাথে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে ফ্যাসিস্ট হিসেবে হত্যা-গুম, অর্থ পাচার ও লুট, দূর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে দেশে এনে তার উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
সোমবার (২৮) অক্টোবর রাতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশ ও আলোকচিত্র প্রদর্শণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ওই সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দপুর উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, সেক্রেটারী আলহাজ্ব মাজহারুল ইসলাম, সাবেক আমীর মাওলানা লুৎফর রহমান, সাবেক আমীর মাস্টার গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী পৌর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী এ্যাড. মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী।
প্রধান অতিথি ড. হাফেজ খায়রুল আনাম আরও বলেন, আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেশ বিদেশে গণমানুষের কাছে পরিগণিত হয়েছে। তাই বাংলার জমিনে আর কোন দিন আওয়ামীলীগের স্থান হবেনা। জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে জানিয়ে তিনি বলেন আওয়ামীলীগসহ দলটির সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এবং তাদের দোসর অন্যান্য দলগুলোকেও নিষিদ্ধ করতে হবে। তা না হলে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান তথা নতুন স্বাধীনতার সুফল দেশের জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়া সম্ভব হবেনা। এজন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ওই সমাবেশ থেকে। একইসাথে ২৪ এর শহীদসহ আহতদের প্রত্যেক পরিবারের ন্যুনতম একজন সদস্যকে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেয়ারও দাবি জানানো হয়।
জামায়াতের নীলফামারী শুরা সদস্য ও সৈয়দপুর শহর আমীর শরফুদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী মাওলানা ওয়াজেদ আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সৈয়দপুরের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সাজ্জাদ হোসেনের বাবা আলমগীর হোসেন।
এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম লালন, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াত নেতা শাহাবাজ উদ্দিন সবুজ, সৈয়দপুর উপজেলা ছাত্র শিবির সভাপতি নাসিব হাসান নুর ও শহর সভাপতি সাদিক আব্দুল্লাহ শিমুল, সাবেক সভাপতি ও কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মুয়ীদ আলালসহ সৈয়দপুর উপজেলা ও শহর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য, এবং ইউনিয়ন সভাপতি ও সেক্রেটারীগণ।
অনুষ্ঠানে সৈয়দপুর সাংস্কৃতিক সংসদ (সৈসাস) এর শিল্পীরা সম্মিলিত ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করে। এছাড়া ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডির প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ছাড়াও দলটির কয়েক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেয়।