1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
কয়রায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন পাইকগাছায় লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত বেনাপোলে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হাকর নদীটি প্রভাবশালীদের দখলে মাছ চাষ করছে ভেড়িবাঁধ দিয়ে কয়রায় মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটিতে আ’লীগ নেতার স্ত্রী সভাপতি, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় প্রাথমিকের ফিডিং কর্মসূচী মিড ডে মিলে’র খাদ্য অনিয়মের প্রমান পেয়েছে কতৃপক্ষ, ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ সাংবাদিকের ভাইয়ের মুত্যুতে কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের শোক ডুমুরিয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি সভা খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ থাকায় ১৭ বছর সংস্কার হয়নি ছাত্রী নিবাস মুন্সীগঞ্জে শ্রীনগরে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ৭

মাদকে সয়লাব সৈয়দপুর: নেশায় আসক্ত যুবসমাজ, অজ্ঞাত কারণে নীরব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর!

  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৮২ বার পঠিত
10177
প্রতীকি ছবি।

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর :


সৈয়দপুর উপজেলায় নানা ধরণের মাদকে সয়লাব। হাত বাড়ালেই মিলছে এসব মরণ নেশা। মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে যুবসমাজের উদ্দীপনা থেমে গেছে। মাদকের ভয়াল থাবায় তারা এখন অপরাধ কর্মকা-েও জড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্পটে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা এবং আড্ডা বসলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অনেকটাই নীরব। মাঝে
মাঝে তারা লোক দেখানো অভিযান চালালেও কোন কাজ হচ্ছে না। ফলে মাদকের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। এসব কারণে অভিভাবকসহ সচেতনমহল গভীর উদ্বিগ্ন। তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ওপর ভরসা হারিয়ে পুলিশের প্রতি মাদকবিরোধী জোড়ালো অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন সৈয়দপুরে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মাদক। গ্রেফতারও হয়েছে মাদকের সাথে জড়িত কয়েকজন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট,ও ফেনসিডিল বেচাকেনা ও
মাদকসেবনের ভয়াবহ চিত্র। মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের মাদক বিক্রি করতে অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তারা মাদকাসক্ত যুবকদের বিনামূল্যে নেশা করার প্রলোভন দেখিয়ে গোটা এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এদের মধ্যে অনেকে রিকশা ও অটোরিকশা চালানোর আড়ালে মাদক বেচাকেনা করছে। সুত্র মতে জুলাই আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে থাকার সুযোগটি বেছে নেয় মাদক ব্যবসায়ীরা। তখন থেকে মাদকের ভয়াবহতা বেড়ে যায় গোটা এলাকায়। ফলে বখে যাওয়া
যুব সমাজ মাদকের নেশায় চরম আসক্ত হয়ে পড়েছে। এ তালিকায় রয়েছে অনেক শিক্ষার্থীও।

সম্প্রতি সৈয়দপুর শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে মাদক বেচাকেনা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে মাদকসেবি ও বিক্রেতার মধ্যে। সেখানে দেখা যায় এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালককে ধাক্কাধাক্কি করছে কয়েকজন মাদকসেবী। পরে ওই অটোরিকশা চালকের কাছে বিষয়টি জানতে জিজ্ঞেস করতে গেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে দৌড়ে আটকানো হয় তাকে। এসময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সে জানায়, রিকশা চালানোর পাশাপাশি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বিক্রি করে সে। দামে বনিবনা না হওয়ায় মাদকসেবীরা তার গাড়িটি আটক করে। তাঁর কাছ থেকে জানা যায়, তার মতো অনেকে এ ব্যবসার সাথে জড়িত। এছাড়া
অনেক মাদকসেবীরা বিভিন্ন কৌশলে মাদক বেচাকেনা করছে।

অভিযোগ রয়েছে নীলফামারী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী জোড়ালো তৎপরতা না থাকার সুযোগে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শহর ছাড়াও গ্রামগঞ্জে মাদকের ভয়াবহতা বেড়েছে।

সূত্র জানায়, সৈয়দপুর শহরের আনাচে কানাচে এবং গ্রামাঞ্চলের নিভৃত এলাকায় বসছে মাদকের আসর। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব আসরে

যোগ দিচ্ছে মাদকসেবী ও বখাটে যুবকরা। পরবর্তীতে তারা মাদকের অর্থ যোগান দিতে চুরি ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে শহরের অফিসার্স কলোনি লিচু মাঠ, হাতিখানা মহুয়া গাছ রেল লাইনের পাশে, হাতিখানা পাইকারি ফল মার্কেট পিকআপ স্ট্যান্ড, বিমানবন্দর নিচু কলোনি, কাজীপাড়া, গোয়ালপাড়া, মুন্সিপাড়া জোড়াপুকুর, কাজীহাট, বাংলা হাইস্কুল মাঠ, তামান্না সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকা বাঁশবাড়ি, সাহেবপাড়া, আতিয়ার কলোনী, ইসলামবাগ গোলাহাট, নয়াটোলা, কয়ানিজ পাড়া, নিমবাগান, নিয়ামতপুর বাস টার্মিনাল, আদানী মোড়, ডাকবাংলো মোড় মিস্ত্রিপাড়া ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাটবাজারসহ গ্রামাঞ্চলের নিভৃত এলাকায় চলছে মাদকের রমরমা কারবার।

এছাড়া সৈয়দপুর প্লাজা, তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রোড, হাতিখানা কবরস্থান সংলগ্ন মাছুয়াপাড়া, কালিতলা, রেলওয়ে মাঠ, রেলওয়ে স্টেশনের আশেপাশের এলাকা, গোলাহাট কবরস্থান রোড, নয়াবাজারের পুরাতন সবজি আড়ৎ ,ঢেলাপীর উত্তরা আবাসন, আদানী মোড় এবং পার্বতীপুর সড়কের সাগর বিলাসের পিছনে ক্যানেলের দ্#ু৩৯;ধারে বসে মাদক
বেচাকেনা ও সেবনের আসর। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের অবাধ বিচরণে এলাকার পরিবেশ ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। অপরদিকে শহরের কাজিপাড়া পানি ট্যাংকি এলাকায় রমরমা ভাবে চলছে চোলাই মদের ব্যবসা। সংঘবদ্ধ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা অবাধে তাদের কারবার চালিয়ে আসলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলেনা। কারণ প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে হামলা নির্যাতন। এমনই ঘটনা ঘটেছে শহরের গোলাহাট কবরস্থান রোড এলাকায়। সম্প্রতি ওই এলাকার চিহৃিত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় মিঠুন নামে এক যুবক স্বাক্ষী হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাঁর উপরে হামলা চালায়। এতে মারাত্মক আহত হয় সে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ১৩ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছে। সেখানে তারা মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।

সুত্র জানায়, তারপরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সৈয়দপুরে মাদক বেচাকেনা প্রসঙ্গে অভিভাবক ও সচেতন সমাজের অভিযোগ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের তেমন তৎপরতা না থাকায় সৈয়দপুরে মাদকের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে।

হাতিখানা এলাকার বাসিন্দা পৌর বিএনপির সহ সভাপতিআনোয়ার হোসেন হাবলু মাদক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,
কয়েক বছর আগে সৈয়দপুর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়টি নীলফামারীতে স্থানান্তর করা হয়। সে সময় থেকে সৈয়দপুরে মাদকের ভয়াবহতা বেড়ে যায়। এখন হাত বাড়ালেই মিলছে নানা ধরণের মাদক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢিলেঢালা কার্যক্রমের কারণে মাদকের নীল ছোবলে যুবসমাজ আজ বিপথগ্রস্থ। মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গোটা উপজেলায় মুড়ি মুড়কির মতো মিলছে মাদক। এ নেশার ভয়াবহ থাবায় যুবসমাজ আজ অন্ধকার পথে হাটছে। তিনি মাদক নিয়ন্ত্রনে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি করেন। সচেতনমহলের অভিযোগ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করা সংস্থার তৎপরতা তেমন না থাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও

মাদকসেবিদের দৌরাত্ব বেড়েছে। ফলে মাদকের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের নিজ নিজ সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা।

তাদের মতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা না থাকায় মাদক বিক্রিসহ বেড়েছে চুরি ছিনতাইসহ নানা অপরাধ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সচেতন সমাজের ব্যানারে মাদকবিরোধী সভা সমাবেশ করাসহ মাদকের বিরুদ্ধে গনস্বাক্ষরে স্থানীয় প্রশাসনের বরাবরে অভিযোগ দিয়েও কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না মাদক ব্যবসা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকসেবী জানায়, বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে সব ধরনের মাদকের চালান এনে গোপন আস্তানায় মজুদ করছে । এলাকার মাদকাসক্ত যুবকদের অর্থ ও মাদক সেবনের লোভ দেখিয়ে ব্যবসায় সম্পৃক্ত করছে। পরে নিজেরা আড়ালে থেকে ক্যারিয়ার হিসেবে ওইসব যুবকদের
মাধ্যমে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। এভাবে মাদকসেবিদের মাধ্যমে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে গত ১১ নভেম্বর মুঠোফোনে কথা হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী কার্যালয়ের উপ পরিদর্শক এনামুল হকের সাথে। তাঁর কাছে প্রশ্ন করা হয়, আপনাদের তেমন তৎপরতা না থাকায় সৈয়দপুরে মাদকের ব্যবসা ও মাদকসেবিদের উপদ্রব ভয়াবহ আকারে বেড়েছে। এসময় তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি,বিষয়টি আপনাদের চোখে না পড়লে আমাদের করার কিছু নেই।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফইম উদ্দিন বলেন, থানা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে মাদকের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এজন্য মাদকের সাথে কোন আপোষ নয়, জানিয়ে তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. শরিফ উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, সৈয়দপুর সহ গোটা জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তিনি বলেন সৈয়দপুরে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে এজন্য সকলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎপরতা না থাকার বিষয়টি সঠিক নয়। তারা মাদক উদ্ধার ও এরসাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছে তাদের সকল সদস্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর