শহরের বস্তি এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে পথনাটকের মাধ্যমে জনগনের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে কাজ শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।
তাদের অংশগ্রহণে গতকাল রবিবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ১১ টায় শহরের বাঁশবাড়ি ক্যাম্পের হানিফ মোড়ে পথনাটক “মইরমের বিয়ে” পরিবেশন করা হয়।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের কাপ-আপ প্রকল্পের শিখন কেন্দ্র ধ্রুবতারা ডাম ইউসিএলসির শিক্ষার্থীরা এ পথনাটক পরিবেশন করেন।
কাপ-আপ প্রকল্পের কালচারাল ইন্সট্রাক্টর অলিরাজ রেজা’র রচনা ও পরিচালনায় “মইরমের বিয়ে” নাটকে মইরমের চরিত্রে সাগরিকা ও স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেন প্রমী আনসারী।
এছাড়া শাবনুর, আলিয়া, নাজিয়া, সাদ, আফসানা, সানিয়া, জীবন, সামসাদ, সামসা ও পপি অন্যান্য চরিত্রে অংশগ্রহণ করেন। যন্ত্রসংগীতের মাধ্যমে নাটকটি ফুটিয়ে তোলেন শিক্ষার্থী রহমত ও ফাইজান।
পথনাটক দেখতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মঞ্জুর আলম, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের টেকনিক্যাল অফিসার বিল্লাল হোসেন, সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলম, ধ্রুবতারা ডাম ইউসিএলসি পরিচালনা কমিটির সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন মাশাসহ, প্রকল্পের শিক্ষক কল্পনা খাতুন, তিথি আক্তার ও বিলকিস আক্তার প্রমুখ। বাঁশবাড়ি উর্দুভাষী ক্যাম্প এলাকার বিভিন্ন শেণিপেশার মানুষ পথনাটকটি উপভোগ করেন।
এতে বাল্যবিবাহের ফলে একজন নারীর শারীরিক, মানসিক ও সাংসারিক সমস্যা, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী সময়ে নিজের ও সন্তানের শারীরিক সমস্যার চিত্র এ পথনাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
আয়োজক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে কাপ-আপ প্রকল্পের মাধ্যমে সৈয়দপুর শহরের বস্তি এলাকায় পিছিয়ে পড়া ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিখন কার্যক্রম চলছে।
শহরে ২৫ টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিখন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।
পথনাটক পরিবেশনা বিষয়ে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সৈয়দপুর ফিল্ডের ব্যবস্থাপক মো. আসাদুল্লাহ জানান, সৈয়দপুরের বস্তি এলাকায় কম বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিয়ে হওয়ার প্রবণতা বেশি। এ সমস্যা উত্তরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন সৈয়দপুর ফিল্ডের আওতায় শিখন কেন্দ্রের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পথনাটক করছে। আগামীতে প্রকল্পের আওতায় শহরের ৫টি শিখন কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরণের পথনাটক করবে।