1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
কয়রায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন পাইকগাছায় লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত বেনাপোলে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হাকর নদীটি প্রভাবশালীদের দখলে মাছ চাষ করছে ভেড়িবাঁধ দিয়ে কয়রায় মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটিতে আ’লীগ নেতার স্ত্রী সভাপতি, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় প্রাথমিকের ফিডিং কর্মসূচী মিড ডে মিলে’র খাদ্য অনিয়মের প্রমান পেয়েছে কতৃপক্ষ, ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ সাংবাদিকের ভাইয়ের মুত্যুতে কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের শোক ডুমুরিয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি সভা খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ থাকায় ১৭ বছর সংস্কার হয়নি ছাত্রী নিবাস মুন্সীগঞ্জে শ্রীনগরে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ৭

স্বর্ণ পাচার মামলায় সৈয়দপুরের কথিত সাংবাদিক জাভেদ গ্রেফতার!

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১১৮ বার পঠিত
saidpur-10356
  • সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি ::

স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য কথিত সাংবাদিক জাভেদ আকতারকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে ঢাকার বিমানবন্দর পুলিশ।

গত ৩০ নভেম্বর রাতে সৈয়দপুর শহরের ইসলামবাগ শেরু হোটেল এলাকার তাঁর শশুরবাড়ি থেকে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তার গ্রেফতারের সংবাদে রাজকীয় স্টাইলে চলা কথিত সাংবাদিক জাভেদের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ৬ কোটি টাকার সোনাসহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয় কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৬ কেজি ওজনের ১২ টি স্বণের বার উদ্ধার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় সৈয়দপুরের জিয়াউল হক (৬০) নামে একজনকে গ্রেফতারও করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বেড়িয়ে আসে জাভেদ আকতারের জড়িত থাকার বিষয়টি।

এদিকে কথিত সাংবাদিক জাভেদ এমন অপরাধের সাথে জড়িত তা জানতে পেরে গোটা শহরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গ্রেফতারের সংবাদে তাঁর সাথে ঘোরাফেরা করেন এমন লোকজনকেও রবিবার থেকে তেমন দেখা যাচ্ছেনা।

সুত্র জানায়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানার উপ পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম (তদন্তকারী কর্মকর্তা) গত ১৭ নভেম্বর ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গ্রেফতার আসামি সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ সরদার পাড়ার বাসিন্দা জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে শুনানী শেষে ২১ নভেম্বর আদালত আসামির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সুত্রটি জানায়, সৈয়দপুরের ধলাগাছ এলাকার জিয়াউল ইসলাম (৬০) সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পথে গত ১৫ আগস্ট বিমানবন্দর পুলিশের হাতে আটক হন। এসময় তল্লাশিকালে তার ব্যাগে অবৈধভাবে নিয়ে আসা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ১২টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। যার ওজন ৫ কেজি ৯শ’ ৮০ গ্রাম। এ ঘটনায় মামলা হলে পরদিন আসামি জিয়াউলকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ২১ নভেম্বর জিয়াউলকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিলে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের পর রিমান্ড শেষে গত ২৭ নভেম্বর আসামি জিয়াউল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। আর তখনই বেড়িয়ে আসে স্বর্ণ চোরাচালানের রহস্য। স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, স্বর্ণ চোরাচালানের সক্রিয় সদস্য সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়ার বাসিন্দা মো. জামিল আক্তারের ছেলে মো. জাভেদ আক্তার।
এরপরেই বিমানবন্দর থানা পুলিশ জাভেদ আকতারকে গ্রেফতার করতে গত ৩০ নভেম্বর রাতে সৈয়দপুরে আসেন। পরে সৈয়দপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় শহরের ইসলামবাগ শেরু হোটেল এলাকার তার শশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফইম উদ্দিন বিমানবন্দর থানায় মামলার প্রেক্ষিতে সৈয়দপুর থেকে আসামি জাভেদকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এঘটনার পর গোটা শহরে জাভেদের গ্রেফতার নিয়ে গোটা শহরে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে গ্রেফতার হওয়া জাভেদ সাংবাদিক পরিচয়ে চলতো দাপটের সাথে। কিন্তু সাংবাদিকতার আড়ালে সে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য তা জানতো না কেউ। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে সবসময় থাকতো ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার প্যাকেট। সে ওই পত্রিকা থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিনামূল্যে নিজেই পৌঁছে দিতো। এ কারণে সবাই তাকে সাংবাদিক হিসেবেই চিনে আসছিল। আর সাংবাদিকতা পরিচয়ে সে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে।

স্বর্ণ পাচার সংক্রান্ত মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া জিয়াউল হকের ধলাগাছ বাসায় গেলে তার ছেলে জাহিদ হোসেন বলেন, আমার বাবার মেরুদন্ডের হাড়ের সমস্যা ছিল। জাভেদ আকতার আমার বাবাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার প্রলোভন দিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা করে দেন। পরে চিকিৎসার নামে আমার বাবাকে তিনিই সিঙ্গাপুরে পাঠান। পাসপোর্টে আমার বাবার মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে কৌশলে জাভেদ আকতারের মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে বলে বিমানবন্দর থানায় জানতে পারি। তিনি বলেন, আমার বাবা বৃদ্ধ ও অসুস্থ। জাভেদ আকতারই আমার বাবাকে ফাঁসিয়েছে।

ইসলামবাগ সেরু হোটেল এলাকার মতিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তি জানান, জাভেদ আকতারের নির্দিষ্ট কোন পেশা ছিল না। কখনো তিনি স্ক্রীণ প্রিন্টের মালামাল সরবরাহকারী, আবার কখনও সাংবাদিক পরিচয় দিতেন।

সুত্র জানায়, কিছুদিন আগে তার পরিবারের সদস্যরাও সিঙ্গাপুরে যান। মূলত তাদের মাধ্যমে সেখান থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে দেশে স্বর্ণ আনতেন। জাভেদ আকতার স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য, কিন্তু এতদিনে সৈয়দপুরের কেউ মূল আঁচ করতে পারেনি। কিন্তু একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দিয়ে স্বর্ণ আনাতে গিয়ে তাঁর অবৈধ কাজের বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেল। তার সাথে সৈয়দপুরে আরও অনেকে থাকতে পারে বলে ধারণা সুত্রটির। তাই বিষয়টি অধিক তদন্ত করে এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন সমাজ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর