শেখ নাদীর শাহ, দীপ্ত নিউজ ডেস্ক:
খুলনার ডুমুরিয়ায় ভাতিজিকে ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশি কাকা আকাশ সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী জনৈকা কিশোরীর মা ইতিকা সরকারের দায়েরকৃত মামলায় শুক্রবার (০৮ মে) উপজেলার চিংড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আকাশ সরকার (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মামলা নং ৭, তারিখ -০৮,০৫,২৬। ভুক্তভোগী জনৈকা কিশোরী একই এলাকার বিশ্বজিৎ সরকারের মেয়ে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানানযায়, দীর্ঘদিন যাবত ডুমুরিয়ার চিংড়া গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সরকারের মেয়ে জনৈকা প্রিয়াংকা সরকাকে (১৩) (ছদ্মনাম) একই গ্রামের প্রতিবেশী ও আত্মীয় আকাশ সরকার (২৭) দীর্ঘদিন যাবত অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ সকাল ১০:৩০ টার দিকে ভুক্তভোগীর বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে আকাশ সরকার তাদের ঘরে প্রবেশ করে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিম বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানালেও মেয়ের ভবিষ্যৎ ও সামাজিক মানসম্মানের কথা বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে তারা কাউকে অবহিত করেননি।
তারপর গত ২০ এপ্রিল পুনরায় বাবা-মার অনুপস্থিতিতে আসামি আকাশ ভিকটিমের ঘরে প্রবেশ করে তাকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা ইতিকা সরকার পুলিশ সুপার, পিবিআই, খুলনা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই (নিঃ) গুলশান আরা শীলাকে ছায়া তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয় এবং তদন্তে ১৫/০৩/২০২৬ ইং তারিখের ধর্ষণের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মা ইতিকা সরকার ওই ঘটনায় ধর্ষক আকাশ সরকারের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।( যার মামলা নং-৭, তারিখ-০৮/০৫/২০২৬ ইং, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ৯(১)।
যদিও মামলাটি পিবিআইয়ের শিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই, খুলনা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) গুলশান আরা শীলার ওপর তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করে।
সর্বশেষ আজ শুক্রবার পিবিআই খুলনার চৌকস একটি আভিযানিক টিমের অভিযানে ধর্ষণে অভিযুক্ত আসামি আকাশ সরকারকে উপজেলার চিংড়া এলাকার তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে। এরপর তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। সর্বশেষ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।