1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
দ্য গার্ডিয়ানে স্থান পেল মুন্সীগঞ্জের ফুটবল উন্মাদনা, বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উল্লাস পাইকগাছা থেকে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, চোর আটক সুন্দরবনে নিষিদ্ধ সময়ে কাঁকড়া শিকার ২ জেলে আটক অভয়াশ্রমের সুফল: ডুমুরিয়ায় মরা ভদ্রা নদীতে মিলছে বড় মাছ সৈয়দপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শেষ হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সফটস্কিলস্ প্রশিক্ষণ : সনদপত্র বিতরণ সুন্দরবনে বন বিভাগের অভিযানে ৩ নৌকা সহ অবৈধ জাল উদ্ধার পশ্চিমবঙ্গের ভোটার যখন বাংলাদেশের স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাতক্ষীরা দিবা নৈশ ডিগ্রী কলেজের সামনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও রাস্তা প্রশস্তের দাবিতে মানববন্ধন মালয়েশিয়া-চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার যখন বাংলাদেশের স্কুলের প্রধান শিক্ষক

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ১১৩ বার পঠিত
avijog-16840
  • রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল ::

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকার প্রমাণ মিলেছে।

শুধু তিনি একা নন তার স্ত্রী-কন্যা, ভাই-ভাবী সহ স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন পশ্চিমবঙ্গে আবার এদেশেও রয়েছে তাদের নাগরিকত্ব।

এদিকে স্কুল চালাতে গিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নানা সময়ে একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে দ্বৈত নাগরকিত্বসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও চাকরিতে বহাল থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, পাইকগাছার লস্কর উপজেলার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকের দফতর থেকে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে তার।

উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নং বরশুল গ্রামের ১ নং মনমোহন দে রোডের পশ্চিমাংশের বাসিন্দা তিনি। একই ব্যক্তি পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার। পিতা নগেন্দ্র নাথ সরকার, মাতা সুমিত্রা রানী সরকার। এদিকে দীপকের স্ত্রী অপর্না সরকার, মেয়ে জয়শ্রী সরকার, বড় ভাই দুলাল চন্দ্র সরকার, ভাবী সুশীলা সরকার, ছোট ভাই তাপস সরকার ও তার স্ত্রী বর্ণালী সরকার সবাই স্থায়ীভাবে ভারতের নাগরিক ও ভোটার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিবার ভারতে পাঠিয়ে দিলেও দেশে বসে স্কুলকে পুঁজি করে তিনি অর্থবিত্ত তৈরি করছেন।

স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ২০২৪ সালে স্কুলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া নিয়োগ দেওয়া হয়। গোপনীয়তা বজায় রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হলেও ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিবাদের মুখে তিন পদে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলেও দীর্ঘদিন পরেও চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে তাদেরকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। এই নিয়োগে অন্তত ত্রিশ লাশ টাকা লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।

এদিকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে স্কুলে প্রণোদনা অনুদান বাবদ বরাদ্দ পাঁচ লক্ষ টাকা খরচের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্দি/ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রণোদনার দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা যথাযথভাবে ব্যয় হলেও বাকি টাকায় কাজের নামে চলেছে নয়ছয়। যার বিল ভাউচার যথাযথ নয় বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়।

স্থানীয় প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, হেড স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি দ্বৈত নাগরিক। অন্য দেশের নাগরিকের বাংলাদেশ সরকারের বেতন ভাতা নেওয়া দন্ডনীয় অপরাধ। নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি ওপারে পাচার করেন। স্কুলের নামে বরাদ্দ এলে ভুয়া বিল ভাউচার করে তহবিল তছরূপ করেন। এ নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দিলেও ফলাফল শুন্য।

নথিপত্র ঘেটে দেখা গেছে, প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো: ঈমান উদ্দিন ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ইউএনও’র নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত টিম ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারী আরেকটি প্রতিবেদন জমা দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান আরও একটি তদন্ত করেন।

এছাড়া চলতি ২০২৬ সালের পহেলা ফেব্রæয়ারী জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরিত প্রতিবেদনে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব রয়েছে বলে ভোটার তালিকা থেকে জানা যায়। এমপিও সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়। বিদেশি নাগরিক এমপিওভুক্ত পদে থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত।

এদিকে ইউএনও’র প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা গত ২৬ ফেব্রæয়ারী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার মহাপরিচালককে প্রেরিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান। তবে চার মাস পরেও এ বিষয়ে কোন অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।

দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, আমি এ দেশের নাগরিক। ভারতের ভোটার না। স্কুলের অনুদান আত্মসাৎ কিংবা নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগও সত্য নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর