- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
চিকিৎসা সহযোগীতার আশ্বাসে খুলনার কয়রার ঘুগরাকাঠি এলাকা থেকে জনৈকা গৃহবধূ (৪০) কে ফুসলিয়ে সাতক্ষীরার তালায় এনে রাতে অপর নারীর সহযোগীতায় খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তালা থানায় নারীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলায় জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাটি গ্রামের অসুস্থ্য ঐ গৃহবধূকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারী হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা করানোর কথা বলে তালায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে বলা হয় এখন যেহেতু সন্ধ্যা হয়ে গেছে এবং রাতে সেখানে ডাক্তার পাওয়া যাবেনা এমন কথা বলে তাকে কৌশলে তালা ব্রীজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় রাজু নামের ঐ যুবক। এসময় রাজু নিজেকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে চাকুরী করেন বলে পরিচয় দেন।
রাতে ওই বাড়িতে বসবাসকারী এক নারীর সহযোগীতায় প্রথমে খাবারের সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অসুস্থ গৃহবধুকে রাজু ধর্ষন করে। জ্ঞান ফেরার পরে গৃহবধু ধর্ষনের বিষয়টি বুঝতে পেরে বাড়ির ওই নারীকে জানায়। এসময় ওই নারী ধর্ষন শিকার গৃহবধুকে গালিগালাজ করে এবং মোবাইলে ধারন করা নগ্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখায়। এঘটনার পর রাতে দফায় দফায় ওই গৃহবধূকে রাজু সহ অপর যুবক পালাক্রমে ধর্ষন করে। শুক্রবার সকালে অসুস্থ গৃহবধূ ওই বাড়ি থেকে কৌশলে বেরিয়ে থানায় আসে।
এঘটনায় একজন নারী (৪০) সহ ৩১ ও ৩৫ বছর বয়সী ২জন যুবকের বিরুদ্ধে তালা থানায় মামলা হয়েছে। তবে, অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাৎক্ষণিক আসামীদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেননি।
এবিষয়ে তালা থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দীক জানান, ধর্ষনের শিকার ওই গৃহবধূ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে তাঁর এক আত্মীয়কে সাথে নিয়ে থানায় এসে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে গৃহবধূর বক্তব্য অনুযায়ী প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত ২ যুবক এবং ১জন নারীর বিরুদ্ধে থানায় অচেতন এবং জোরপূর্বক ধর্ষন অপরাধের মামলা (মামলা নং ১০, তাং ১৪ আগস্ট ২৬) রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার আসামীদের গ্রেফতারের জন্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ভিকটিম নারীকে প্রয়োজনীয় ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য এদিন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।