- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
সাতক্ষীরার তালায় উন্নত চিকিৎসার কথা বলে অসুস্থ্য গৃহবধূকে ডেকে এনে খাদ্যে চেতনানাশক মিশিয়ে অজ্ঞান করে গ্যাংরেপ ও তা ভিডিও ধারনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা ২ জনকে চিহ্নিতপূর্বক তাদের গ্রেফতার করতে সমর্থ হলেও মামলার একমাত্র চিহ্নিত ও প্রধান আসামী উপজেলার আটারই গ্রামের ওবায়দুল সরদারের ছেলে রাজু সরদারকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি থানা পুলিশ। ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাদের ধারণা, রাজুকে গ্রেপ্তারপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসতে পারে ঘটনার অন্তরালের অজানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।
মামলার বিবরণ, ঘটনার শিকার নারীর পারিবারিক সূত্র ও থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাটি গ্রামের অসুস্থ্য ঐ গৃহবধূকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারী হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা করানোর কথা বলে তালায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে বলা হয় এখন যেহেতু সন্ধ্যা হয়ে গেছে এবং রাতে সেখানে ডাক্তার পাওয়া যাবেনা এমন কথা বলে তাকে কৌশলে তালা ব্রীজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় এই রাজু। এসময় রাজু নিজেকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে চাকুরী করেন বলে পরিচয় দেন। রাতে ওই বাড়িতে বসবাসকারী এক নারীর সহযোগীতায় প্রথমে খাবারের সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অসুস্থ গৃহবধুকে ধর্ষন করে রাজু। জ্ঞান ফেরার পরে গৃহবধু তাকে ধর্ষণের বিষয়টি বুঝতে পেরে বাড়ির ওই নারীকে জানায়। এসময় ওই নারী ধর্ষণের শিকার গৃহবধুকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও মোবাইলে ধারন করা নগ্ন ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখায়। এরপর রাতে ফের জোরপূর্বক ঐ গৃহবধূকে ধর্ষণ করে রাজুসহ অপর এক যুবক। পরের দিন শুক্রবার সকালে অসুস্থ গৃহবধূ ওই বাড়ি থেকে কৌশলে বেরিয়ে তালা থানায় গিয়ে ঘটনার বিবরন দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন-২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(৩)/৩০ তৎসহ ৩২৮ পেনালকোড ১৮৬০ ধারায় মামলা দাখিল করেন। তালা থানা মামলা নং-১০।
এদিকে রাজু’র পিতা ওবায়দুল সরদার ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও নিউজ বন্ধ করতে বিভিন্ন মহলে মোটা টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। কতিপয় সাংবাদিক নেতাদের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে নিউজ বন্ধ করতে নানাবিধ অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে ঘটনায় রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির কাশিমনগর এলাকা থেকে কাশিমনগর এলাকার সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী শিপ্রা বিশ্বাস (৩৫) ও একই এলাকার দেবব্রত বিশ্বাসের ছেলে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মচারী অনুপ বিশ্বাস (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে। থানা পুলিশ প্রথমত অধিক তদন্তের স্বার্থে আসামীদের নাম পরিচয় গোপন রেখে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
এবিষয়ে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দীক মামলায় আসামী শিপ্রা ও অনুপকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এবং প্রধান আসামী রাজু সরদারকে গ্রফতারের জন্য অভিযান অব্যহত আছে।
সূত্র জানায়, ধর্ষিতার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে যশোরের কেশবপুর থানায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে একটি মামলা হয়েছিল। এছাড়া তালার ঘটনার আগেও একাধিকবার তালায় রাজুর সাথে ঐ ভাড়া বাসায় দেখা করেছিল। এক কথায় পূর্ব পরিচিত তারা। আর এ তথ্য সত্য হলে সর্বশেষ তাদের মধ্যে কি এমন ঘটনা ঘটল যার কারণে রাজুকেই প্রধান আসামী করে ধর্ষণের মামলা হল? আর ধর্ষিতা দু’জনকে অজ্ঞাত পরিচয় আসামী করে মামলা করলেও রাতারাতি তাদের চিহ্নিত করল কে? তবে কি তৃতীয় কোন পক্ষ অন্তরালে কল-কাঠি নাড়াচ্ছে? এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। আর প্রধান আসামী রাজুকে গ্রেপ্তার করতে পারলে বেরিয়ে আসতে পারে অজানা অনেক তথ্য!