- নিজস্ব প্রতিনিধি ::
সাতক্ষীরার তালায় উন্নত চিকিৎসার কথা বলে অসুস্থ্য গৃহবধূকে ডেকে এনে খাদ্যে চেতনানাশক মিশিয়ে অজ্ঞান করে গ্যাংরেপ ও তা ভিডিও ধারনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির কাশিমনগর এলাকা থেকে রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে এক নারীসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত নারী শিপ্রা বিশ্বাস (৩৫) বিশ্বাস কাশিমনগর এলাকার সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী ও অপর জন অনুপ বিশ্বাস (৩৮) একই এলাকার দেবব্রত বিশ্বাসের ছেলে ও স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মচারী।
এর আগে কয়রার জনৈকা গৃহবধূ গত ১৪ আগস্ট তালা থানায় তাকে প্রথমে অচেতন ও পরে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে একটি মামলা করেন। যার নং-১০।
মামলার বিবরণ, ঘটনার শিকার নারীর পারিবারিক সূত্র ও থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাটি গ্রামের অসুস্থ্য ঐ গৃহবধূকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারী হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা করানোর কথা বলে তালায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে বলা হয় এখন যেহেতু সন্ধ্যা হয়ে গেছে এবং রাতে সেখানে ডাক্তার পাওয়া যাবেনা এমন কথা বলে তাকে কৌশলে তালা ব্রীজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় রাজু নামের ঐ যুবক। এসময় রাজু নিজেকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে চাকুরী করেন বলে পরিচয় দেন।

রাতে ওই বাড়িতে বসবাসকারী এক নারীর সহযোগীতায় প্রথমে খাবারের সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অসুস্থ গৃহবধুকে ধর্ষন করে রাজু। জ্ঞান ফেরার পরে গৃহবধু তাকে ধর্ষণের বিষয়টি বুঝতে পেরে বাড়ির ওই নারীকে জানায়। এসময় ওই নারী ধর্ষণের শিকার গৃহবধুকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও মোবাইলে ধারন করা নগ্ন ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখায়। এর পর রাতে ফের জোরপূর্বক ঐ গৃহবধূকে ধর্ষণ করে রাজুসহ অপর এক যুবক। পরের দিন শুক্রবার সকালে অসুস্থ গৃহবধূ ওই বাড়ি থেকে কৌশলে বেরিয়ে থানায় গিয়ে ঘটনার বিবরন দিয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
থানা পুলিশ প্রথমত অধিক তদন্তের স্বার্থে আসামীদের নাম পরিচয় গোপন রেখে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে রবিবার সকালে কাশিমনগরে অভিযান চালিয়ে অনুপ ও শিপ্রাকে আটক করে।
এবিষয়ে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দীক মামলায় আসামী শিপ্রা ও অনুপকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।