বিশেষ প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রায় উত্তরচক কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অধ্যাপককে মারপিটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার (০৬ মে) রাতে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কয়রা থানায় এ মামলাটি দায়ের করেছেন।
এদিকে মামলার আসামী কয়রা উত্তরচক আমিনিয়া বহুমুখী কামিল মাদ্রাসার হেড ক্লার্ক কামরুলকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব ৬ খুলনার স্পেশাল কোম্পানী কমান্ডার এম সরোয়ার হুসাইন।
রোববার র্যাবের পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার খুলনা জেলার কয়রা থানাধীন কয়রা উত্তরচক আমিনিয়া বহুমুখী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম কয়রাতে আসেন।
সেখানে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদানের জন্য মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মহারাজপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাহমুদ নিয়োগ বোর্ডকে ক্রমশ চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। নিয়োগ বোর্ডের প্রতিনিধিরা চেয়ারম্যানের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে পরীক্ষার কার্যক্রম শেষে গাড়ি যোগে নিজ কর্মস্থলে ফিরছিলেন। এমতাবস্থায় তাদের বহন করা নিয়োগ বোর্ডের গাড়িটি ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন গাড়িটি আটকে দেয়।
এ সময় অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ইউপি চেয়ারম্যানের কথামতো নিয়োগ পত্রে স্বাক্ষর করতে রাজি না হলে ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। পরে চেয়ারম্যানের বাড়িতে একটি কক্ষে অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে আটক করে মাদ্রাসার প্রধান করনিক আসামি কামরুল তার কাছ থেকে জোরপূর্বক নিয়োগ পত্রে স্বাক্ষর নেয়। পরে আহত অবস্থায় অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এব্যাপারে জানতে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও মহারাজপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল করে নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার দিন রাতে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি প্রফেসর নজরুল ইসলামকে মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। নিয়োগ পরীক্ষা শেষে তিনি তার বাড়িতে নাস্তা করতে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন।
সর্বশেষ এ বিষয়ে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কয়রা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় র্যাব-৬ খুলনার একটি আভিযানিক দল রোববার কয়রা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি কামরুলকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামি কামরুলকে কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এব্যাপারে কয়রা থানার ওসি এবিএমএস দোহা মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।
প্রসঙ্গত, গত ২০২২ সালের ২১ মার্চ সন্ধ্যায় ইউপি সচিব ইকবাল হোসেনকে তার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে পরিষদের কক্ষে আটকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় ইউপি সচিব বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মারধরের মামলা করেন। পরে মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।