- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
পাইকগাছার কপিলমুনির কাশিমনগর বাজারস্থ আলোচিত ভিপি সম্পত্তি উদ্ধারে অবশেষে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: ফজলে রাব্বীর নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় বিভিন্নজনের দখলে থাকা সম্পত্তির উপর দোকানের গায়ে ঐ নোটিশ সেটে দেয়। যদিও দখলদারদের পক্ষে বলা হচ্ছে ইতোমধ্যে তারা সরকারের বিরুদ্ধে ভিপি অবমুক্তি মামলায় নালিশী .৭৩ একর সম্পত্তির প্রায় .৬৬ একর অবমুক্তির রায় পেয়েছে। অন্যদিকে জমির মূল এসএ রেকর্ডীয় মালিক ভগবান চন্দ্র বিশ্বাসের ভ্রাতুষ্পুত্র দেবব্রত বিশ্বাস বাদী হয়ে হাই কোর্টে একটি রুলনিশির আবেদন করেছেন। এতে সরকার পক্ষকে কেন উক্ত জমি ভিপি সম্পত্তি তালিকাভূক্ত করা হয়েছে তার কারণদর্শাতে বলা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, উক্ত সিএস ৫৩৩ খতিয়ানের ১.০৬ একর সম্পত্তির মালিক ছিলেন, স্থানীয় বছির উদ্দীন বেহারার স্ত্রী মালঞ্চ বিবি। দীর্ঘ দিন করখাজনাদি প্রদানে ব্যার্থ হলে এর নিলাম হয় যা, খরিদ করেন স্থানীয় গয়রাতুল্লাহ মৌলভী, শেখ ইজাহার আলী, আব্দুল জব্বার মোড়ল ও মুিজবর মোড়ল নামে চার জন। পরে তারা স্থানীয় ছত্রধর বিশ্বাসের ছেলে ভগবান বিশ্বাসের কাছে গত ২৮/৫/৪৬ তারিখে ২২২৫ নং রেজি: কবুলতি মূলে ০.৭৩ একর সম্পত্তি হস্তান্তর করেন। বাকী ০.৩৩ একর সম্পত্তি এর আগে গত ৯/৭/৪৫ ইং তারিখে ২৮৫৪ নং রেজি: কবুলতি মূলে সিএস রেকর্ডীয় মালিক মালঞ্চর শরীকগণের নিকট বিক্রি করেন। এরপর ১৯৬৫ সালের দিকে দিকে ভগবান উক্ত জমি কাউকে হস্তান্তর না করে স্থায়ীভাবে ভারতে চলে যান। নিয়মানুযায়ী উক্ত সম্পত্তি ভগবানের অপর ভ্রাতাগণ যথাক্রমে ভজহরী, ললিত ও অনিল বিশ্বাসের দখলে চলে যায়। এসময় ভ্রাতাগণের মধ্যে ললিত মোহন বিশ্বাস সমুদয় সম্পত্তি নিজে করায়ত্ব করতে ৭৮২ দাগের ০.৭৩ একর সম্পত্তির তালা উপজেলার ইসলামকাটি সাব:রেজি: অফিসের পোড়া ভলিউমের ডেটে একটি জাল তঞ্চকতা মূলক দলিল প্রস্তুত করেন যে, ভগবান সমুদয় সম্পত্তি তাকে হস্তান্তর করেছে। যার দলিল নং-১২৩, তারিখ ১০/০১/৬০।
এরপর দলিলের বৈধতা নিতে ললিত অপর .৩৩ একর সম্পত্তির খরিদা গ্রহীতা শওকত দিংদের দিয়ে খুলনা তৃতীয় মুনসেফী আদালতে একটি মামলা করান। যাতে ললিতকে বিবাদী শ্রেণিভূক্ত করা হয়। মামলায় শওকত দিংদের সাথে ২৮/৩/৮০ তারিখে সোলে সূত্রে রায় ও ১/৪/৮০ তারিখে ডিক্রী বুনিয়াদে পরবর্তীতে ৫৯/৮০-৮১ নং নামপত্তন কেসে নিজ নামে নামপত্তন করে বিভিন্ন জনের কাছে সমুদয় সম্পত্তি হস্তান্তর করেন।
এদিকে ১৯৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধের সময় ভগবান তার সম্পত্তি কাউকে হস্তান্তর না করে চলে যাওয়ায় আইনানুযায় সরকার উক্ত সম্পত্তি পরিত্যক্ত অবস্থায় ভিপি জমি হিসেবে গত ইং ০৪/১০/২০১২ তারিখে অর্পিত সম্পত্তি সংশোধিত গেজেটে ‘ক’ তপশীলে ১ নং ক্রমিকে তালিকাভূক্ত করে ১৯৯/৭৭-৭৮ নং ভি,পি লীজ কেসে রাজস্ব গ্রহনে সরকার গত ইং ২৫/৭/৭৮ তারিখে হতে ইজারা প্রদান শুরু করে।
এ অবস্থায় ললিত মোহনের কাছ থেকে খরিদা সুত্রে দখলাদাররা গাজী রবিউল ইসলাম দিং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনাল, পাইকগাছা আদালতে সরকারের পক্ষে ডেপুটি কমিশনার, খুলনাকে বিবাদী করে গত ৩০/৯/১২ ইং একটি মামলা করেন। যার নং অর্পিত ৪৭০৫/২০১২। মামলায় বাদীপক্ষ আদালতকে ভূল বুঝিয়ে গত ২/৯/২৫ তারিখে নিজেদের পক্ষে রায় ও ডিক্রী নেয়। আদালত রায় ও ডিক্রীর অনুলিপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কুলনা বরাবর প্রেরন করে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেয়।
সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, কবুলতি মূলে প্রাপ্ত .৭৩ একর সম্পত্তির এসএ জরীপে রেকর্ড নেওয়ার পরে ১৯৬৫ সালের দিকে ভগবান ভারতে চলে যান কাউকে হস্তন্তর না করে। এসময় তার ৩ ভাই বাংলাদেশে রয়ে যান। তারা যথাক্রমে লোলিত মোহন বিশ্বাস, ভজহরী ও অনিল বিশ্বাস। অথচ তার এক ভাই রোলিত সমুদয় সম্পত্তি নিজে করায়ত্ব করতে ইসলামকাটী পোড়া ভলিউমের ১০/১/১৯৬০ সালের ১২৩ নং তঞ্চকতামূলক দলিরটি প্রস্তুত করেন। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে লোলিত ৬০ সালে জমি খরিদের পর ৬২ সালের এসএ জরীপের রেকর্ডটি নিজ নামে করাননি কেন? তার মানে তিনি ১৯৬০ সালে কোন রেজি: করাননি। এরপর প্রায় ১৮ বছর পর ৭৮ সালে ঐ ১২৩ নং দলিলের বৈধতা নিতে তৃতীয় মুসেফী আদালতের ২১/৭৮ নং মামলায় লোলিত মূল পক্ষদের বাদ দিয়ে ৯/৭/৪৫ তারিখে ২৮৫৪ নং দলিলের গ্রহিতা জহির উদ্দীন ও তকিম এর ওয়ারেশদের দিয়ে মামলায় নিজেকে ডিড গ্রহীতা হিসেবে একমাত্র পক্ষ ও ভগবানের অন্যান্য আরোও দুই ভাইকে বাদ দিয়ে মামলা ও পরে বাদীদের সাথে সোলে সূত্রে রায ডিক্রি নিয়ে ৫৯/৮০-৮১ নামপত্তন কেসে মালিকানা নিয়ে পর্যায়ক্রমে সমুদয় সম্পত্তি হস্তান্তরের পর স্বপরিবারে ভারতে চলে যান।
এছাড়া জিএম রবিউল ইসলামের দায়ের করা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ মামলার রায়ে বাদী পক্ষদের এদশের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত ও জীবিত দেখানো হলেও বিচার্য বিষয় হিসেবে তাদের দাতা লোলিত কিংবা লোলিতের দাতা তার ভ্রাতা এদেশের নাগরিক নন। এক কথায় তাদের দাতা লোলিত মোহনের সৃষ্ট ১২৩ নং দলিলটির বিশ্লেষণ করা হয়নি। অর্থাৎ রবিউল দিংদের দাতার জমি না থাকলে গ্রহীতা হিসেবে বাদীপক্ষের জমি থাকার কথা নয়।
এদিকে সিএস রেকর্ডীয় মালিকের ওয়ারেশ হিসেবে সর্বশষ গত ৬/৪/২৬ তারিখে স্থানীয় এনায়েত সরদারের স্ত্রী রিজিয়া বেগম ও তার সন্তানরা পাইকগাছা সিনিয়র জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা করেছেন। যার নং ৬৪/২৬ (আরোও বিস্তারিত আসছে)