খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের কালীতলা এলাকার এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রতিবেশি গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ আড়ংঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের কালীতলা এলাকার একজন স্কুল শিক্ষকের স্ত্রীকে (৩২), তার প্রতিবেশি রংপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক প্রসূন বিশ্বাস পম্পি (৪১) প্রায়ই তাকে একা পেয়ে কু-প্রস্তাবসহ উত্ত্যক্ত করতো। এ নিয়ে গৃহবধূ তার স্বামীকে জানালে বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ পম্পির পরিবারকে জানায় এবং পম্পিকে ওই গৃহবধূর সাথে কথা বলতে এবং তাদের বাড়ির আশে পাশে ঘোরা ফেরা করতে নিষেধ করে।
এক পর্যায়ে গত ১৬ মে তারিখ রাত সাড়ে ৯টার দিকে গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুবাদে তাকে ডেকে ঘরের বাইরে এনে জোর পূর্বক ধর্ষণ চেষ্টা করে। এ সময় গৃহবধূর ডাক চিৎকারে বাড়ির পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে এলে পম্পি তাকে জীবননাশসহ নানাবিধ হুমকি দিয়ে চলে যায়।
পরবর্তীতে ওই দিন রাত ১১টার দিকে গৃহবধূর শিক্ষক স্বামী বাড়িতে ফিরলে তাকে ঘটনা খুলে বললে তিনি পম্পির কাছে কৈফিয়ত চাইতে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় দেখতে পান পম্পি তাদের ঘরের দেয়ালের পাশে অন্ধকারের ভিতর দাঁড়িয়ে আছে। এ সময় স্কুল শিক্ষক পম্পিকে ঝাপটে ধরে এবং তার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করার জন্যে কৈফিয়ত চাইলে তাদের মধ্যে উত্ত্যপ্ত বাক্য বিনিময়সহ হাতাহাতির মত ঘটনা ঘটে।
এসময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের দু পক্ষকে শান্ত করে দু’জনকে আলাদা করে দেয়। পরে পম্পি ওই গৃহবধূ এবং তার স্বামীর জীবননাশসহ নানাবিধ হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায়। বর্তমানে ওই দম্পতি চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রসূন বিশ্বাস পম্পি মোবাইল ফোনে জানান, ‘ওই গৃহবধূ তার বিরুদ্ধে যে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন সেটা ডাহা মিথ্যা ও সম্পূর্ণ বানোয়াট। তবে স্কুল শিক্ষকের সাথে পূর্ব থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ-গ্রুপিং -এর কারনে তার মতবিরোধ থাকায় ওই দিন রাতে কলেজ মাঠের পাশে শিক্ষকের সাথে তার বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির মত ঘটনা ঘটেছিলো এটা ঠিক।’
এব্যাপারে আড়ংঘাটা থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্যে একজন সাব ইন্সপেক্টরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।