- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কপিলমুনির এক সময়ের হোটেল বয় ও কয়েক বছর পূর্বের চা-দোকানি বর্তমানে জুয়োলী ব্যবসার আঁড়ালে সুদে কারবারি ‘হঠাৎ বাবু’ খ্যাত বর্তমানে তালার ঘোষনগরের বাসিন্দা প্রদীপ ঘোষের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অনলাইন দৈনিক দীপ্ত নিউজ ২৪.কম-এ স্থানীয় এক সদ্য বিধবার বসতবাড়ি ভেঙ্গে নিজের বাড়ির রাস্তা প্রশস্তকরণে জমি ক্রয়ের খবরে মহল বিশেষ দৌড়-ঝাঁপ ও সংশ্লিষ্ট অনলাইন পত্রিকার সম্পাদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
এদিকে তালা উপজেলার ঘোষ নগর গ্রামের মৃত সুবোধ ঘোষের ছেলে প্রদীপ ঘোষের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে জানা-অজানা নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। তার কপিলমুনিস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঘর মালিক রবীন্দ্র নাথ অধিকারী নিজ প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় প্রদীপের নিকট থেকে মোট ১৪ লক্ষ ৯ হাজার টাকা গ্রহন করেন। যার ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা উতোমধ্যে পরিশোধও করেছেন। কিন্তু প্রদীপ তার কাছ থেকে দু’দফায় ২ টি স্ট্যাম্প ও চেক নিয়ে ২৬ লক্ষ টাকা গ্রহনের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছেন।
রবীন্দ্র নাথ জানান, তার একমাত্র দোকানের পাশাপাশি কপিলমুনি সদরস্থ তার বসত-বাড়ির দাগ, খতিয়ান উল্লেখে বিক্রির বায়নাপত্র করেছেন মর্ম্মেও লিখিত নেন ঐ চুক্তিপত্রে। এখন তার মালিকানাধীন প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের দোকান ঘরটি তাকে রেজিস্ট্রি করে না দিলে ভবিষ্যতে দোকানসহ বসতবাটি আদায়ে আদালতে মামলা করবেন বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রদীপ। এ ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন রবীন্দ্র নাথ অধিকারী।
এদিকে প্রদীপ তার নিজ বসত-বাটির রাস্তা প্রশস্তকরণে ঘোষনগরের জনৈক বিশ্বজিৎ দাশ’র মৃত্যুর পর তার বসত-বাড়ির জায়গা রেজি: করে নিতে তার স্ত্রী প্রীতিলতা বিশ্বাসকে দিয়ে তার স্বামী-শাশুড়ীর মৃত্যুর পর তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির নামপত্তন মামলায় জীবনী স্বত্বের পরিবর্তে সরাসরি নিজ নামে তঞ্চকতামূলক রেকর্ড নিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে দফায় দফায় শালিসীতে তাকে ঘর ভেঙ্গে বসতভিটার জমি বিক্রিতে বাধ্য করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রদীপের বাড়ির সরাসরি রাস্তা নির্মাণের জন্য তিনি স্বামীর বসত ঘর, রান্না ঘর ভেঙ্গে এবং বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষ কর্তন করে ঐ জমি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঘটনায় তার একমাত্র শিশু পুত্রসন্তান ও দু’ননদের ভবিষ্যৎ সংকটময় করে তুলবে।
সূত্র জানায়, তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের ঘোষনগর মৌজার ঘোষনগর গ্রামের বিআরএস ৯৫ খতিয়ানের পঞ্চানন দাশ দিংদের মালিকানাধীন ১.৪৭০০ একর জমির মধ্য থেকে নামপত্তন করে সদ্য বিধবা প্রীতিলতা বিশ্বাস নিজ নামে জীবনী স্বত্ত্বের পরিবর্তে সরাসরি ০.৪১২৭ একর সম্পত্তির নামপত্তন করে বিক্রির এ কার্যক্রম শুরু করেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বিআরএস রেকর্ডীয় মালিক নির্ম্মল কুমার দাশ মৃত্যুকালে এক স্ত্রী জোৎস্না রানী দাশ, এক পুত্র বিশ্বজিৎ দাশ ও ২ কন্যা যথাক্রমে সুচিত্রা ও সুমিকে রেখে মৃত্যবরণ করেন। এরপর একমাত্র পুত্র বিশ্বজিৎ তার মৃত্যুর আগে কপিলমুনির নাছিরপুর এলাকার জনৈক প্রদীপ অধিকাররি নিকট ০.০৭ একর জমি বিক্রি ও পরে প্রদীপ অধিকারী স্থানীয় আরেক প্রদীপ ঘোষের কাছে বিক্রির পর তিনি ঐ সম্পত্তিতে সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ করেন। এরই মধ্যে বিশ্বজিতের অকাল মৃত্যু হলে তিনি একমাত্র ওয়ারেশ পুত্র অংকন দাশ (২), স্ত্রী প্রীতিলতা বিশ্বাস, মা জোৎস্না রানী ও ২ বোন সুচিত্রা ও সুমীকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর স্ত্রী প্রীতিলতা অন্যান্য ওয়ারেশদের বাদ রেখে নিজ নামে জীবনী স্বত্ত্বের পরিবর্তে সরাসরি ০.৪১২৭ একর জমির নামপত্তন করেন। এরপর অন্যান্য ওয়ারেশদের কাউকে না জানিয়ে পার্শ্ববর্তী দু’ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সমর্থিত স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় ইউপি সদস্যদের মধ্যস্থতায় প্রতিবেশী প্রদীপ ঘোষের কাছে স্বামীর বসতবাড়ি, রান্নাঘর ভেঙ্গে, ফলজ বৃক্ষ কর্তন করে তার প্রতিবেশী প্রদীপ ঘোষের নিকট ০.৩১৯ একর জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে চুক্তিপত্র সম্পন্ন পূর্বক টাকার লেনদেন হয়েছে বলে সূত্র দাবী করছে।
সূত্র জানায়, প্রীতিলতাকে দিয়ে অনলাইন নামপত্তনের আবেদন করিয়ে প্রদীপ তার সাবেক প্রভাবশালী আতœীয়ের মাধ্যমে জীবনী স্বত্ত্বের পরিবর্তে ওয়ারেশ স্বত্ত উল্লেখে প্রীতিলতার নামে ঐ তঞ্চকতামূলক রেকর্ড প্রস্তাব করান।
অন্যদিকে একাধিক সূত্র জানায়, ইতোপূর্বে অনলাইনের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয় প্রদীপ। অনলাইনের মাধ্যমে নিজেকে জার্মান প্রবাসী পরিচয়ে প্রাইমারী স্কুলের রীতা রানী দাসের নিকট থেকে ২০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা গ্রহনের পর প্রতারনার অভিযোগে ঐ মামলা হয়। যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তারের দিন তার ঘোষনগরস্থ বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ ৯৭ হাজার নগদ টাকা ও বিভিন্ন ডকুমেন্টস উদ্ধার করেছিল।
মামলায় বলা হয়, প্রদীপ ঐ শিক্ষিকার কাছ থেকে জমির দলিল তৈরীর নামে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের ৩ কপি ছবি, স্বাক্ষরযুক্ত নন জুডিশিয়াল ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্প, স্বাক্ষররযুক্ত ৩টি চেক গ্রহন করে। এরপর ঐ শিক্ষিকা প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে আতœসাৎকৃত টাকাসহ অন্যান্য উপকরণগুলি উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে যশোর কোতযালী মডেল থানায় একটি মামলা করেন। যার নং-৮, তারিখ-০৩/০৭/২০২১। ধারা:-৪০৬/৪১৭/৪২০/৪৬৮/৫০৬ দ:বি:। পরে আদালতের মাধ্যমে সমুদয় টাকা বুঝে দিয়ে জামিন মেলে তার। (আরও বিস্তারিত আসছে)