মানুষ মানুষের জন্য এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চল সুন্দরবন সংলগ্ন একটি ব্যতিক্রম ধর্মী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান নওয়াবেঁকী গনমুখী ফাউন্ডেশন। শুরু থেকেই সমাজের প্রান্তিক, অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি নিরালসভাবে কাজ করে চলেছে।
সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ব্যক্তি স্বার্থে নয়, জনস্বার্থে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীর ক্ষমতায়নে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে ‘নওয়াবেঁকী গণমুখী ফাউন্ডেশন’ (এনজিএফ)।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে এই বে-সরকারি সংস্থাটি। বর্তমানে প্রায় ৬ শত জন কর্মকর্তা- কর্মচারী প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত রয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে নির্বাহী পরিচালকের দিকনির্দেশনায় সকল কর্মকর্তা কর্মচারী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের দ্বায়িত্ব পালন করে চলেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কালিগঞ্জসহ খুলনা ও যশোর জেলার উপকূলীয় বিভিন্ন উপজেলায় এনজিএফ-এর সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন কয়েক হাজার নারী ও যুবক। ছোট ব্যবসা, মাছ চাষ, গবাদি পশু পালন ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে তারা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।
উপকূলের নারী উদ্যোক্তাদের একজন জাহানারা খাতুন, সন্ধ্যা রানীসহ অনেকেই বলেন, একসময় তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। এই সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করার পর এখন সন্তানদের পড়ালেখা ও সংসার ভালোভাবে চলছে। তাদের মত অনেকই গনমুখী ফাউন্ডেশন থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে ও বিভিন্ন ধরেন সুযোগ সুবিধা নিয়ে তারাও এখন স্বাবলম্বী।
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলবাসীর নিত্যসঙ্গী। দুর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি পুনর্বাসনেও অগ্রণী ভূমিকা রাখে চলেছে সংস্থাটি। এছাড়া বেকার যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
নওয়াবেঁকী গনমুখী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. লুৎফর রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল ঋণ দেওয়া নয়, মানুষের জীবন বদলে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য । উপকূলের মানুষ যাতে আত্মমর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। বর্তমানে আমাদের ১৩ টি প্রজেক্টের কাজ চলমান। আরএইস এস প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীন জনগোষ্ঠীর জন্য দূর্যোগ সহনশীল গৃহ নির্মানের কাজ চলছে,যেকানে ২২০ টি গৃহ নির্মান করার কথা থাকলেও আমরা ২৫০ টি গৃহ নির্মান করছি। প্রতিটি প্যাকেজে ঘরসহ আনুষঙ্গিক নির্মান কাজের জন্য ৪লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সেখান থেকে অবশিষ্ট টাকা থেকে অতিরিক্ত ৩০ টা ঘর নির্মান করা হচ্ছে।
সল্প আয়ের ইমান- মুয়াজ্জিন ও কাওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিনা লাভে ঋণ দেওয়া, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি,বিনা মূল্যে চক্ষু অপারেশনসহ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এবারের ঈদুল আজহায় অসহায়,দুঃস্থ মানুষের জন্য ৫০ টি গরু কুরবানী করা হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধা নিয়ে হাজার,হাজার অসহায় পরিবার আজ প্রতিষ্ঠিত।
তারদাবি সমাজে কিছু মানুষ আছে যাদের নিজেদের কোন যোগ্যতা না থাকলেও যারা গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে তাদের নিয়ে সমালোচনা করা। তবে সমালোচনা থাকবেই, তাই সমালোচনায় বিচলিত না হয়ে তারা তাদের গন্তব্যে পৌছাবেন এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।