সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৪ জন কর্মচারীর নিয়োগ বাতিলের অপচেষ্টার অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টায় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে উক্ত কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন জুলাই যোদ্ধা জিল্লুর রহমান, পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. রাজ হোসেন, সাইফুল, সাকিব হোসেন, মো: সাইফুল ইসলাম, আয়া ফাতেমা তুজ জোহরা, রুমানা, তুলি, রাকিবা খাতুন, লিফটম্যান ওয়াছিকুর, মুনির, আতাউর, ওয়ার্ড বয় শাহজালাল সবুজ, বেলাল, আবুল হোসেন, আরিফুল, সুমন, আফতাবুজ্জামানসহ আরও অনেকে।
এসময় বক্তারা বলেন, আমাদের ৫৪ জনের নিয়োগ সম্পূর্ণ সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন যাবত তারা হাসপাতালের রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই চাকরি পেয়েছি। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে উক্ত নিয়োগ বাতিলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি কিছু অনিবন্ধিত ও ভুঁইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদা ও প্রধান সহকারীর দায়িত্বে থাকা মো. মোস্তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। উক্ত অপপ্রচারের সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রইচপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা জড়িত রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনের বক্তৃতায় বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মো. মহসিন আলম বিভিন্ন সময় দলবল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে পরিচালককে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্থান নয় এটি মানুষের জীবন রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।
এখানে যদি প্রভাবশালী মহল ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাহলে সাধারণ রোগীরা কীভাবে নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা পাবেন? তারা আরও দাবি করেন, মো. মহসিন আলম নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তার কোনো বৈধ সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র নেই।
সাংবাদিক পরিচয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, হাসপাতালের আউটসোর্সিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারি বিধি অনুযায়ী অনলাইনে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেই প্রক্রিয়ায় টি ফর ইন্টারন্যাশনাল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী গিয়াসউদ্দিন কার্যাদেশ লাভ করেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের পরিচালক বা প্রধান সহকারীর ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা বা দায়ভার নেই বলেও তারা দাবি করেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে তাদের ভাষায় অপপ্রচার, মিথ্যা অভিযোগ ও ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবি জানান।
একই সঙ্গে মো. মহসিন আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী চক্রের কারণে হাসপাতালের সেবামূলক পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। যারা হাসপাতালকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
কর্মসূচি শেষে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।