সৈয়দপুরে সিলগালাকৃত গোডাউন থেকে ৯৯ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ কীটনাশক উধাওয়ের ঘটনা তদন্তে বিসিকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ
প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
২০
বার পঠিত
মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর:
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর সিলগালাকৃত গোডাউনে থাকা ২ কোটি টাকার ৯৯ মেট্টিক টন নিষিদ্ধ কীটনাশক উধাওয়ের ঘটনা তদন্ত করলেন বিসিকের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত ৩ সদস্যের তদন্ত দল ওই গোডাউনসহ আশেপাশের কয়েকটি গোডাউন ও প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) পরিচালক ( পরিকল্পনা ও গবেষণা) মোহাম্মদ আরিফুল হকের নেতৃত্বে তদন্ত দলে আরও ছিলেন বিসিকের মহাব্যবস্থাপক মো.ফরহাদ হোসেন ও সারোয়ার হোসেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরীর একটি গোডাউনে থাকা ২০২৩ সালে সরকার নিষিদ্ধ এসিআই কোম্পানির বিফার ৫ জি বালাইনাশক গোপনে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সময় প্রশাসন অভিযান চালায়। এসময় ট্রাকে লোড করা ও গোডাউনে সংরক্ষণ করে রাখা ১ কেজি ও ২ কেজি প্যাকেটের মোট ৯৯ মেট্টিক টন কীটনাশক আটক করা হয়। পরে ওইসব কীটনাশক জব্দ করে গোডাউন সীলগালা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ,র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম। সাথে ছিলেন নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক শাহিনা বেগম,সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ সহ র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। সে সময় ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এসিআই কোম্পানির সৈয়দপুর উপজেলা ডিলার মেসার্স মনোয়ার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনোয়ার হোসেন সরকারকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বাদি হন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ। পরে মনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলার বাদি হন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ। আদালতে বিচারাধীন রয়েছে মামলাটি ।
এদিকে আদালতের নির্দেশে গত ২৯ জুলাই নীলফামারীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান সৈয়দপুরে বিসিকের সিলগালাকৃত গোডাউনে রক্ষিত নিষিদ্ধ কীটনাশক ধ্বংস করার জন্য আসেন। তিনি বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে গোডাউনে প্রবেশ করে দেখেন সেখানে কোন কীটনাশক নাই। মাত্র ১২৩ টি ১ কেজির ছেড়াফাটা প্যাকেট মেঝেতে পড়ে আছে। সেখানে ৯৯ হাজার প্যাকেট না পেয়ে গোডাউনের মেঝেতে পড়ে থাকা সেসব ধ্বংস না করে প্যাকেটগুলো বিসিক শিল্প নগরী কর্মকর্তা মশিউর রহমানের জিম্মায় রেখে গুদাম আবার তালাবদ্ধ করেন। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যান্যরা জানান,সিলগালা করা গোডাউনে আদালতের দেওয়া হিসাব মতে উল্লিখিত পরিমাণ কীটনাশক না থাকায় ধ্বংস কার্যক্রম করা হলোনা। তারা বিষয়টি আদালতকে জানিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকসহ অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত দল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীতে আসেন তদন্তের জন্য। তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের সামনে বিসিকের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল হক বলেন, আমরা সার্বিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি এবং সরাসরি সবকিছু দেখেছি। এসব পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এটা মূলত: বিসিকের আভ্যন্তরিণ তদন্ত। তাই এখনই সব কিছু খুলে বলা যাবেনা।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর উপ-পরিচালক নুরেল হক, সৈয়দপুর শিল্পনগরী কর্মকর্তা মশিউর রহমান, সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম মিন্টু, থানার এসআই ঋষিকেশ চন্দ্র বর্মণ ও এসআই মনিরুজ্জামান।