1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মাচায় পোল্লার বাম্পার ফলন: ডুমুরিয়ার শাহিনুরের সাফল্যে কৃষকদের মাঝে নতুন আশা কয়রায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপন গজারিয়ায় মাথাভাঙ্গা খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করলেন এমপি কামরুজ্জামান রতন পাইকগাছায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে আরএফএল কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার শালিসকারীকে হাতুড়িপেটায় হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার কয়রায় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সেবা মাস উপলক্ষে মত বিনিময় সভা সৈয়দপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে সহায়তার চেক বিতরণ কয়রায় সুশীলনের প্রকল্প অবহিতকরন সভা  সাতক্ষীরায় মাছের ঘের থেকে যুবকের  বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিততে হলে যে ২ অভিশাপ কাটাতেই হবে

নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ, জীবন জীবিকায় সুন্দরবনে ভরকরা পরিবারগুলোতে উৎসবের আমেজ

  • প্রকাশিত : রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩০৭ বার পঠিত
13120
রিয়াছাদ আলী, দীপ্ত নিউজ(কয়রা):


টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল পহেলা সেপ্টম্বর থেকে জেলে-বাওয়ালী ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবনের দ্বার। বনের উপর নির্ভরশীল পরিবার গুলোতেও তাই চলছে যেন উৎসবের আমেজ।
বন বিভাগ জানায়,  সুন্দরবনের বন্য প্রানী, নদী -খালের  মাছের বিচরন ও প্রজনন কার্যক্রম সুরক্ষায় ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর পহেলা জুন থেকে বনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বন বিভাগ। যে কারণে সুন্দরবনে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩ মাসের জন্য মাছ-কাঁকড়া ধরা ও সকল ধরনের পর্যটকদের  ভ্রমণ নিষিদ্ধ রাখে বন বিভাগ। ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে জলভাগের পরিমাণ ১৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার, যা পুরো সুন্দরবনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। সুন্দরবনের ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে জলভাগের পরিমাণ ১৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার, যা পুরো সুন্দরবনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। সুন্দরবনে প্রায় ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ প্রাণী বাস করে।
এ ছাড়া আছে প্রায় ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর, বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী।
বন বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, প্রায় ১২ হাজার নৌকার সুন্দরবনে প্রবেশের বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) আছে। সে হিসাবে প্রতিটি রেঞ্জে ৩ হাজারের মতো বিএলসি (অনুমতিপত্রধারী) জেলে নৌকা আছে। সুন্দরবনের বানিয়াখালী, কাশিয়াবাদ, নলিয়ান, কালাবগি স্টেশনসহ খুলনা রেঞ্জের আওতায় ২ হাজার ৯০০টি নৌকার সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতিপত্র (বিএলসি) আছে। দীর্ঘ ৯২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে পারমিট নিয়ে বৈধ ভাবে বনে প্রবেশ করবেন জেলেরা।
কয়রার  মৎস ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হুদা বলেন,এলাকায বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে ও মৎস্যজীবীদের তিন মাস না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগ থেকে পারমিট (পাস) নিয়ে ছুটে যাবেন সুন্দরবনে। এখন তাঁদের শুধু অপেক্ষার পালা। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় আগের মতো দুই মাস করার দাবি তাদের।
কয়রার শাকবাড়িয়া নদী তীরবর্তী ৫নং কয়রা গ্রামে জেলে আলতাফ হোসেন সহ কয়েকজন জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা খুব কষ্টে ছিলেন। সুন্দরবনে মাছ ধরতে না পারায় পরিবার নিয়ে ধার দেনা করে দিন পার করতে হয়েছিল । এখন তারা সুন্দরবনের  নদীতে মাছ ধরতে পারবেন। এতে কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।
তিনি আরও বলেন, বছরে সুন্দরবন গড়ে পাঁচ মাস বন্ধ থাকে, দুই মাস কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম হিসেবে আর বাকি তিন মাস মাছে ও পশুপাখির  প্রজনন মৌসুম হিসাবে। এ নিষেধাজ্ঞার সময় কমিয়ে ২মাস করার দাবি তাদের।
বনজীবী রফিকুল ইসলাম  বলেন , বন্ধের সময় ছেলে -মেয়ে’ স্ত্রী পরিবার নিয়ে  দিনগুলো বড্ড কষ্টে পার করতে হয়। আর এলাকয় তেমন কর্মসংস্থান নাই  সরাদিন দিন মুজরী খেটে যা পাওয়া যায় তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।
তিনি আরও বলেন, তাদের জন্য মৎস বিভাগ থেকে সরকারি যে সহায়তা দেওয়া হয়, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। নিষিদ্ধ সময়ে সরকারি সহায়তার বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি তাদের।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেড এম হাছানুর রহমান বলেন, তিন মাস নিষেধাজ্ঞার পর সোমবার ১ সেপ্টম্বর থেকে পর্যটক ও জেলেদের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পত্র (পাশ) দেওয়া শুরু হবে । ইতিমধ্যে সব ষ্টেশন গুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বনের পূর্ব ঘোষিত অভ্যয়ারণ্য এলাকায় আগের মতো প্রবেশ নিষিদ্ধ বহাল থাকবে বলেও নিশ্চিত করেন এ বন কর্মকর্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর