শেখ দীন মাহমুদ:
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (আই আর আই ডিপি-৩) এর আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৩ হাজার মিটার রাস্তা নির্মাণ কাজ ব্যাপক অনিয়মের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পে একটি নির্দিষ্ট বড় অংশকে বাইরে রেখে ভিন্ন পথে শুরু হওয়া কাজ স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশলীর পরোক্ষ সহযোগীতায় এগিয়ে চলেছে নিন্মমানের উপকরণ সামগ্রীতে। সিলকোডের আগে ম্যাকাডামের কাজ করতে তারা রাতভর বাইরে থেকে নিন্মমানের আমা ইটের খোঁয়া এনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিলেও কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় সর্বশেষ সকল প্রকার অনিয়ম-দূর্নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

জানাগেছে, গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (আই আর আই ডিপি-৩) এর আওতায় প্রকল্পে উপজেলার কপিলমুনির কাশিমনগর আমজাদের দোকান বিসি সড়ক-রামনগর ভায়া ইয়াকুব এবং রাধা সাধুর বাড়ির সড়কের ১০০-৩০০০ মিটার রাস্তা নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে সড়কটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক অদৃশ্য ইশারায় সড়কের অন্তত ৩টি সংযোগ রাস্তার কাশিমনগর এলাকাকে বাইরে রেখে রামনগরের প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে রামনগর গ্রামটি ঘুরে স্থানীয় মানিকতলা বাজার পর্যন্ত বাস্তবায়ন করছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি নির্মাাণে প্রথম থেকেই নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির উপর ভর করেই কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুরুতে বক্স আকারে মাটি কাটার পর স্থানীয় বিভিন্ন জলাশয় থেকে অবৈধ উপায়ে মাটি মিশ্রিত বালু উত্তোলন করে ঐ বক্স ভরাট করে। এরপর এএস’র কাজ করতে অত্যন্ত নিন্মমানের ইট ও ট্রেক্রার বা ট্রাকযোগে বাইরে থেকে ভাটার গোটা (ইটের উচ্ছিষ্ট অংশ) আনে। এরপর বেশ কিছু দিন কাজ বন্ধ রেখে সম্প্রতি ম্যাকাডামের কাজ করতে একইভাবে বাইরে থেকে ভাঙ্গা ও গোটা ইটের টুকরো এনে তা দিয়ে করা হচ্ছে।
এনিয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর বক্তব্য সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে প্রকল্পকাজ। বিশেষ করে প্রকল্পে ১০০০ মিটার থেকে ৩০০০ মিটার পর্যন্ত কাজ হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তার দাবি, আমজাদের দোকান হতে ভায়া ইয়াকুব ও রাধা সাধুর বাড়ি-বর্তমান শুরুর স্থল পর্যন্ত ১০০০ মিটার এলাকা বাদ রাখা হয়েছে প্রকল্পে। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রকল্পে আমজাদের দোকান হতে রামনগর পর্যন্ত ভায়া ইয়াকুব ও রাধাপদ সাধুর বাড়ি চলতি প্রকল্পের উৎস্য স্থলের আগে তিনটি লিংক রোডের মিলনস্থল। যা বাদ রেখে কাজ শুরু করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পে স্থানীয় খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) এর সংসদ সদস্য আলহাজ্জ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু গত ১৩ জানুয়ারী ২২’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। যাতে প্রকল্প সড়কের দৈর্ঘ্য ১০০-৩০০০ মিটার লেখা থাকলেও প্রকৌশলী বলছেন, ১০০০-৩০০০ মিটার।
এব্যাপারে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোড়ল আব্দুস সালাম জানান, প্রকল্পে রেকর্ড দূর্নীতি-অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। বাইরে থেকে নিয়মিত আমা ইটের খোঁয়া এনে এএস ও ম্যাকাডামের কাজ করা হয়েছে। এর আগে তারা এলাকাবাসীর পক্ষে নিন্মমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করায় তা বন্ধ করে দিলেও এক অদৃশ্য ইশারায় ঠিকাদার সেই নিন্মমানের উপকরণেই কাজ অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতেও তারা ট্রাক্টর চালিত বাহনে করে নিন্মমাণের আমা ইটের খোঁয়া এনে ম্যাকাডামের কাজ করেছে। অথচ উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষে কোন প্রকার খোঁজ-খবর পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছেনা।
এব্যাপারে এলজিইডি’র পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান চিরাচরিত স্বভাবে বলেন, নিন্মমানের ইট ব্যাবহারের ব্যাপারে তিনি জানেননা। দেখি যিনি দায়িত্বে রয়েছেন তার কাছে খোঁজ নিচ্ছি। এছাড়া কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, সম্ভবত মার্চ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সর্বশেষ ধারণা করা হচ্ছে, উপজেলা প্রকৌশলীদের সাথে পরষ্পর যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রুহুল কুদ্দুস রাস্তায় প্রথম থেকেই নিন্মমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যাবহার করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা এব্যাপারে ব্যাবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কৃর্তপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।