- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
পাইকগাছার কপিলমুনির রামনগর এলাকায় সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে স্থানীয় একটি ক্লাবের নামে সরকারি রাস্তার গাছ বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে শনিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলা বন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌছে গাছ কাটা বন্ধ করে দিলেও চক্রের সাথে জড়িত কারোর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।
অভিযোগে জানানো হয়, স্থানীয় রামনগর গ্রামের হাকিমসহ কতিপয় যুবক রামনগর মনষা মন্দির সংলগ্ন কালীপদর বাড়ি- দেবেন ঘোষের বাড়ি অভিমুখে সরকারি রাস্তার জায়গায় লাগানো একটি বিশালাকৃতির লম্বু (মেহগনি প্রকৃতি) গাছ কাশিমনগর এলাকার জনৈক গাছ ব্যবসাযী শফিকুল ইসলামের নিকট ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়।
শফিকুল ইসলাম সরকারি রাস্তার উপর জেনেও নাম মাত্র মূল্যে গাছটি ক্রয় করে শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে গাছ কর্তন শুরু করে। প্রথম দিন গাছের সমুদয় ডাল কেটে পরের দিন শনিবার গাছের গোড়া খুঁড়ার কাজ শুরু করে।
এদিকে সরকারি গাছ বিক্রির বিষয়টি এলাকাবাসী পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা বন কর্মকর্তা প্রবীর কুমার দত্তকে নির্দেশ দেন।
সকালে বনকর্মকর্তা প্রবীর দত্ত, কপিলমুনি ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কৃষ্ণ পদ দাশসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌছে ঘটনার সত্যতা পেয়ে গাছ কর্তনের কাজ বন্ধ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে দেখা করার কথা বলেন।
এব্যাপারে গাছ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় হাকিম, পাশের জমি মালিক হারুন সরদারসহ কতিপয় যুবক স্থানীয় নবদূত সংঘের উন্নয়নের নামে গাছটি তার কাছে ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। যার ১৫ হাজার টাকা স্থানীয় ইউপি সদস্য’র মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে দেওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য অজিয়ার রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২/৩ দিন আগে মোবাইলে ক্লাবের নামে গাছটি বিক্রির কথা বললে তিনি সরকারি নিয়ম অনুসরণপূর্বক ইউনিয়ন পরিষদের কোষাগারে হিস্যানুযায়ী টাকা জমা দেওয়ার কথা বলেন বলে জানান।
বন কর্মকর্তা প্রবীর দত্ত’র কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে পৌছে গাছটি সরকারি রাস্তার সীমানায় দেখে এর কর্তনকাজ বন্ধ করে ইউএনও মহোদয়কে অবহিত করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগের নির্দেশ দেন।
জানাযায়, সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চক্র বেশ কিছু দিন ধরে সরারি রাস্তার পাশে লাগানো গাছ বিভিন্ন অযুহাতে কর্তন করে বিক্রি শুরু করেছে। গত কয়েক দিন পূর্বে কপিলমুনির কাশিমনগর শিশুতলা এলাকায় রাস্তার পাশে লাগানো একটি মৃত শিশু গাছ কপিলমুনি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: ইউনুস আলী মোড়লের নির্দেশে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে জমি মালিককে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পকেটস্থ করেন। এর আগে রেজাকপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি গাছ বিক্রি করে নেন কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দারসহ জনৈক জনপ্রতিনিধি। এরও আগে ঐ জনপ্রতিনিধি রামনগর-কাশিমনগর এলাকার সরকারি রাস্তার পাশ লাগানো একাধিক গাছ বিক্রি করে নেন।
বিভিন্ন সময় এসব গাছ বিক্রির অংশ বিশেষ ইউপি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও মূলত এসব টাকা পরিষদের কোন কোষাগারে জমা হয় এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিভিন্ন মামলার আসামী ও যুবলীগের কপিলমুনি ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো: ইউনুস আলী মোড়ল।
উল্লেখ্য, অত্রাঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি রাস্তার গাছ নামমাত্র খরিদ করেন গাছ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। ইতোপূর্বে কাশিমনগর এলাকার একপি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কাটতে গিয়ে মামলায় জেল খাটলেও বেরিয়ে এসে সে ফের একই কর্মে লিপ্ত রয়েছে।
সচেতন এলাকবাসী এব্যাপারে তদন্তপূর্বক ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ যথাযথ কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।