- শেখ দীন মাহমুদ ::
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিরিয়াল ছাত্রী যৌন নিপিড়ক বহুলালোচিত শিক্ষক মিলন রায়কে সাময়ীক বরখাস্তের পর এবার চুড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোডের্র আর্বিটেশন বোর্ড।
গত ২৯ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোর এর বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড.মো কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিঅ -৬/৪০৬০/২২৮ নং স্মারকে এক পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পত্রে বলা হয়, ক. গত ১৫ এপ্রিল আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটির ৮৯ তম সভার ৮৯ (২) নং আলোচ্যসূচির ৩নং ক্রমিকের সিদ্ধান্ত খ. প্রধান শিক্ষকের ১৬/২/২৫ তারিখের অনলাইন আবেদন (আইডি ৩২৯৭৬) মোতাবেক খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্তকৃত সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) চুড়ান্তভাবে বরখাস্তকরণে অনুমতি প্রদানের জন্য আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটির সভায় চুড়ান্ত বরখাস্তের আবেদন মঞ্জুর করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
একই স্মারকে পত্রের অনুলিপি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বরখাস্তকৃত শিক্ষক, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ১০ টি দপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর ২৪’ বিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ১০ম শ্রেনীর জনৈকা ছাত্রীকে তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলে তাকে যৌণ হয়রাণি করেন। এমনকি ঐ শিক্ষক পরীক্ষার বিষয়ে তাকে বলেন- তুমি আমার বিষটা দেখবে আর আমি তোমার পাশের বিষয়টি দেখবো।
এ ঘটনা ঐদিনই তার পরিবার ও পরে এলাকাময় জানাজানি হলে তার শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসবর্জন, শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ সচেতন এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথমত গত ৫/১১/২৪ তারিখে তাকে কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করেন। এ ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকাবাসী দূর্বাও আন্দোলন গড়ে তুললে গত পরের দিন ৬/১১/২৪ তারিখে এডহক কমিটির ১০/২৪ নং সভায় ২নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৮ নভেম্বর ২৪’ প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
এরপর ঘটনার শিক্ষার্থীর পিতা মাহফুজুল মোড়ল বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, খুলনা আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। যার নং-১৩৫/২৪। আদালত গত ১২/১১/২৪ তারিখে মামলা নিতে পাইকগাছা থানাকে নির্দেশ দেন। আদেশ নং-১। ইতোমধ্যে মামলায় জামিন নিয়ে বাড়িতে এসে ফের স্কুলে ঢোকার পায়তারা চালিয়ে আসছিল।
এব্যাপারে অভিযুক্ত মিলনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাক্ষাৎ কিংবা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মিলন রায় ফের স্বপদে ফিরতে মহল বিশেষ দৌড়-ঝাঁপ ও তার বহিষ্কারাদেশ অবৈধ দাবি করে বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুর রহমানকে প্রধান করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিদ্যালয় পরিদর্শকসহ ৭ জনকে আসামী করে পাইকগাছা সিনিয়র জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যা বিচারাধীন রয়েছে।
এব্যাপারে কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুর রহমান তার চুড়ান্ত বরখাস্তের ব্যাপারে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্কুলটি এবার কলুষমুক্ত হয়েছে।
সর্বশেষ সিদ্ধান্তে অভিভাবকসহ স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে লম্পট শিক্ষকের ফের অনুপ্রবেশে যেকোন ধরনের প্রক্রিয়া বা কর্মকান্ড তারা শক্ত হাতে মোকাবেলা করবেন বলেও জানান।