- রিয়াছাদ আলী, কয়রা(খুলনা) ::
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পর্যটকদের বরন করতে সুন্দরবনের কালাবগী ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রটির সকল প্রস্তুুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বন বিভাগের কালাবগী স্টেশনের বন রক্ষীরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। যাতে করে নিবিঘ্নে পর্যটকরা চলাচল করতে পারে। তবে এবার ঈদের পরে মাত্র তিন দিন পর্যটকরা ঐ স্থানে ঘোরার সুযোগ পাবে। এরপর ১ জুলাই হতে সুন্দরবনের সকল দুয়ার বন্ধ থাকবে আগামী ৩ মাস। সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারবেনা।
জানা গেছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের জন্য নতুনভাবে সাজানো হয়েছে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের কালাবগী ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র। সেখানে পর্যটকদের মন কেড়ে নেয় সুন্দরবনের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও তার অবকাঠামো। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কালাবগী। ঐ ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রটি যারা ঘুরে এসেছে তারা জানায় এবার বনে গিয়ে একটু ভিন্ন রকমের মনে হয়েছে তাদের। কালাবগীতে হরিণের পাল দেখা গেছে নদীর চরে। পর্যটন কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে বনে চলাচলও সহজ হয়েছে।
পর্যটক আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি আগে সুন্দরবন ঘুরতে এসেছেন। মোংলা থেকে রওয়ানা হয়ে করমজল, হাড়বাড়িয়া, নীলকমল ও কটকা ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘এবার কালাবগী গিয়ে একটু ভিন্ন রকমের আনন্দ উপভোগ করেছি। সেখানে বেশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে।
ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের অপর পাশে হরিণের পাল দেখতে পেয়েছি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সুন্দরবনের আসল চেহারা উপভোগ করা সম্ভব হয়েছে।
সুন্দরবনে নির্মাণাধীন কালাবগী ইকো ট্যুরিজমের কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পর্যটকদের জন্য সেখানে তৈরি করা হয়েছে নৌযান থেকে ওঠানামার পন্টুন, ওয়াচ টাওয়ার, বসার জন্য গোলঘর। বনের মধ্যে কিছুটা হাঁটাহাঁটির জন্য তৈরি হচ্ছে কংক্রিটের ফুট ট্রেইল। সেখানে খাঁচায় রাখা হয়েছে হরিণ ও কুমির। কালাবগী ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রে প্রায় সর্বক্ষণই দেখা মেলে বন্য শূকর, বানর, গুইসাপ ও চিত্রল হরিণের।
কালাবগী ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আঃ ছালাম বলেন, ‘এ বছর মৌসুম শুরু হতেই কালাবগী কেন্দ্রে প্রচুর পর্যটক আসা শুরু করেছেন। আমরা স্টেশনের গাছগুলোতে স্থানীয় নাম ও বৈজ্ঞানিক নাম লিখে দিয়েছি। ফলে পর্যটকরা এতে সহজে গাছের পরিচিতি জানতে পারছেন। বনের বিভিন্ন প্রাণীর নামের তালিকা ও বর্ণনা নানা স্থানে টানানো হয়েছে। যাতে কোনো বন্য প্রাণী পর্যটকরা দেখলে তার বাহ্যিক স্বভাব বুঝতে পারেন। ফলে পর্যটকরা তাদের বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকবেন। এ ছাড়া সুন্দরবনের শেখেরটেক এলাকায় ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রটিতে পর্যটকরা যেতে পারছে। সেখানে ৪০০ বছরের পুরোনো একটি কালীমন্দির ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।
শেখেরটেক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রটিও কালাবগী ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন। ওই স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আঃ ছালাম বলেন, ‘শেখেরটেক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রেও পর্যটকের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব সময় বন বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে স্বল্প সময়ে কালাবগী ও শেখেরটেক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র দুটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান হিসাবে পরিচিত পেয়েছে।
পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পরিদর্শনে গিয়ে সবাই ইতিবাচক কথা বলছেন। সেখানে নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।