- শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) ::
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ডোমরা বিল থেকে কোনোভাবেই মিলছে না পানি নিষ্কাশনের পথ। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। পানি না সরায় মারাত্মক চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষীরা।
জলমগ্ন একাধিক গ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো বিঘা জমি :
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডোমরা বিলের পানি আটকে থাকার কারণে খর্নিয়া ইউনিয়নের— টিপনা,আংগাদহ,পাঁচপোতা,পাঁচুড়িয়া,ভদ্রদিয়া,বাহাদুরপুর,গোনালী ও বামুন্দিয়াসহ আশপাশের প্রায় সবকটি গ্রামের হাজার হাজার বিঘা রোপা আমন, সবজি ক্ষেত এবং শত শত শত মাছের ঘের এখন পানির নিচে। ঘের ভেসে গিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ বের হয়ে গেছে, যা স্থানীয় চাষীদের লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
যা বলছেন স্থানীয় প্রতিনিধি ও প্রশাসন ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম: পানি নামার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। কালভার্ট ও নর্দমাগুলো পলি পড়ে এবং জায়গায় জায়গায় অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলের পানি সরছে না। কৃষকদের চোখের সামনে সব স্বপ্ন পানিতে ভেসে যাচ্ছে। দ্রুুত টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না করলে পুরো এলাকার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে।
ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মোল্লা আবুল কাশেম:
এটি কোনো স্বাভাবিক দুর্যোগ নয়, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও অনিয়ন্ত্রিত বাঁধের কারণে আজ এ কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুনর্উদ্ধার করতে হবে, তা না হলে হাজার হাজার কৃষক নিঃস্ব হয়ে যাবে।
মোসলেম আলী, প্রশাসক (চেয়ারম্যান), খর্নিয়া ইউনিয়ন পরিষদ: ডোমরা বিলের পানি নিষ্কাশনের আকস্মিক এ জটিলতা নিয়ে আমরা অত্যন্ত চিন্তিত। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে পানি বের করার রুটগুলো পরিদর্শনের কাজ চলছে। দ্রুত সাময়িক নালা কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মিজ সবিতা সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও): ডুমুরিয়া খর্নিয়ার ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতার খবর আমরা পেয়েছি এবং স্থানীয়দের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম কোনো বাধা থাকলে তা উচ্ছেদ করে
দ্রুত পানি অপসারণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি বিশাল এ বিলের পানি না সরলে শুধু বর্তমান মেয়াদের ফসল ও মাছই নষ্ট হবে না, সামনে শীতকালীন সবজি চাষেও দেখা দেবে চরম বিপর্যয়। ফলে অনতিবিলম্বে স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে নিষ্কাশন নালা পুনঃখনন এবং টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।