- নিজস্ব প্রতিনিধি ::
পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাশিমনগরে গলায় ফাঁস দিয়ে জামাল গাজী (৪০) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাতের যেকোন সময় ঘটনাটি ঘটে। জামাল ওই গ্রামের মৃত সোলাইমান গাজীর ছেলে।
তবে তাৎক্ষণিক তার আত্নহত্যার কারণ জানা না গেলেও মৃতর ভাগ্নে সোহাগ এ প্রতিনিধিকে জানান, তার মামা জামাল দীর্ঘ
দিন ধরে মানষিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ ছিল। এর আগেও সে অন্তত ৩ বার আত্নহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি। তিনি আরোও জানান, প্রতি রাতের ন্যায় রবিবার রাতে পরিবারের সবার সাথে খাবার খেয়ে স্ভাভাবিক ভাবে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে সকালে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, মৃত জামালের পিতা সোলাইমানের মৃত্যুর পর থেকে তার বোন অরুনা ও তার স্বামী মজিদ দর্জি তাদের একমাত্র সন্তান সোহাগসহ একই পরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে জামালের বোন অরুনা গত ২০১৪ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেও তার ভগ্নিপতি মজিদসহ তার ছেলে ঐ পরিবারেই থেকে যান। এরপর বছর খানেক ভাল থাকার পর জামালের আকষ্মিক মস্তিষ্ক’র বিকৃতি ঘটে। তবে চিকিৎসায় ভাল হয়ে গেলেও মাঝে মাঝে আকষ্মিক ভুল বকা-বকি করে থাকে। মৃত জামালের আপন নামে এক ছেলে রয়েছে। সে স্থানীয় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরের ৮ম শ্রেণির ছাত্র।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে জামালের স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে তাকে নিজ ঘরের বারান্দার বাঁশের আড়ার সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সবুর সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌছে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে।