- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাতনকাটিস্থ আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিন্নমত পোষণ করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আজগর আলী।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জমিদাতাদের উদ্বৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সুপারের দূর্নীতি-অনিয়মের কারণে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শূণ্য হয়ে পড়েছে বিষয়টি আদৌ সত্য নয়। বর্তমানে ১ম থেকে ১০ শ্রেণী পর্যন্ত ২৫৫ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৭ জন। মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন দূর্বল ও ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারিত ভবনের বরাদ্দ হয়েছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়েছেন। অতিশীঘ্রই ভবন নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে। এমন পরিস্থিতিতে তারা বর্তমান একোডেমিক ভবন সংষ্কার করছেননা। শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে তারা পার্শ্ববর্তী আকেটি মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলক তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করাচ্ছেন।
চলতি বছরও তাদের মাদ্রাসা থেকে ১৬ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে।
তিনি বলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর গত ২০১৯ সালে ২০ পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৫ জন কৃতকার্য হয়। ২০২০ সালে ২০ পরীক্ষা দিয়ে ১৪ জন, ২১ সালে ২১ জন পরীক্ষা দিয়ে ২১ জনই কৃতকার্য, ২২ সালে ২০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৫ জন, ২৩ সালে ১৮ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪ জন, ২৪ সালে ১৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পরীক্ষা দিয়ে ১৪ জন, ২৫ সালে ১৮ জন পরীক্ষা দিয়ে ১ জন ও সর্বশেষ চলতি ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৬ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে।
দানীয় সম্পত্তি ফেরৎ চেয়ে ফেরৎ চেয়ে ইউএনও’র দপ্তরে আবেদন সম্পর্কে তিনি বলেন, নিজ অর্থায়নে নগদ টাকার বিনিময়ে গত ২০০১ সালের ২২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানীয় আকবর মোড়লের স্ত্রী রেখা বেগম, শফিয়ার রহমানের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও শহর আলী মোড়লের স্ত্রী ফুলজান বিবির নিকট থেকে ৫৬৯০/০১ নং দলিল মূলে বিআরএস ৯২১ খতিয়ানের ১৭৪৪,১৭১৭, ১৭০৮, ১৭৪৪ দাগে ৫০.৫০ একর ও পৃথক ১২২৯ খতিয়ানে ৮০৬ দাগে ০.০৯২০ একর সম্পত্তি খরিদ করে আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকে প্রতিষ্ঠানের নামে ঐ জমির নামপত্তনপূর্বক নিয়মিত খাজনা দাখিলা কর্তন করেন তারা। তবে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে জমির রেজিস্ট্রি খরচ বাঁচাতে দানপত্র দলিল করা হয় ঐ সময়।
এরপর ১/১/২০০২ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১/১/০৪ সালে স্বীকৃতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ড থেকে ১/১/২৫ থেকে ৩১/১২/২০২৭ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখানকার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শুক্র-শনিবার শ্রম বিক্রি করে মাদ্রাসার আসবাবপত্র সহ খরচের যোগান দিতেন। আর এখন প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে একটি মহল সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য সরবরাহ করছে।
তিনি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে সংবাদকর্মীদের প্রতি দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানান।