এবারও জাতীয়করণের তালিকায় উপেক্ষিত হচ্ছে খুলনা বিভাগের সবচেয়ে প্রাচীণতম এমপিওভুক্ত কপিলমুনি কলেজ। সুন্দরবন উপকূলীয় দক্ষিণ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা ইতিহাস-ঐতিহ্যের লীলাভূমি খ্যাত সূ-প্রাচীণ জনপদের এ বিদ্যাপীঠটি প্রতিষ্টিত হয় ১৯৬৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। ১০.২৩ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সমৃদ্ধ কলেজটিতে এইচ,এস,সি, স্নাতক (সম্মান), স্নাতক (পাশ) শ্রেণির মোট ৮ টি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় সব শাখা, প্রশাখা, পুষ্প-পল্লব অটুট থাকলেও প্রতিষ্ঠার প্রায় ৬০ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি বিদ্যাপীঠটি।
গত সরকারের শাসনামলে উপেক্ষার পর ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী সর্বশেষ বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশব্যাপী উপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের জন্য বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হলে পুনরায় আশায় বুক বাাঁধেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ জনপদের সর্বস্তরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, তৎকালিন স্থানীয় কতিপয় শিক্ষানুরাগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯৬৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর ৩১ জুলাই ১৯৬৯ সালে নিবন্ধন পায় কলেজটি। এরপর ১৯৭৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ডিগ্রী অনুমোদন পায়। এরপর ১ মার্চ ১৯৮৫’ সালে একসাথে এইচএসসি ও ডিগ্রী পর্যায়ে এমপিও পায়। ২০১০ সালের ২৪ মার্চ অনার্স (সম্মান) অনুমোদন পায়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সগৌরবে এগিয়ে চলেছে বিদ্যাপীঠটি।
কলেজ সূত্র জানায়, ১০.২৩ একর জমির উপর প্রতিষ্টিত কলেজে বর্তমানে অনার্স সহ ৪ টি দ্বিতল বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ১ টি দ্বিতল প্রশাসনিক ভবন, ৪ তলা বিশিষ্ট ১টি আইসিটি ভবন, ছাত্রাবাস ১টি, দ্বিতল বিশিষ্ট অতিথিশালা ১টি, গ্যারেজ ১টি, নামাযের ঘর ১টি, ৩৭টি শৌচাগারসহ কলেজের নিজস্ব পুকুর, লেক, প্রাচীর বেষ্টিত ১ একর আয়তনের খেলার মাঠ, শহীদ মিনার রয়েছে বিদ্যাপীঠের ক্যম্পাসজুড়ে।

কলেজে বর্তমানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ ১ জন করে সহ ৬৩ জন শিক্ষক, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ১৪ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এরমধ্যে ৩২ জন এমপিতভূক্ত শিক্ষক ও ননএমপিও বাকিরা ডিগ্রী তয় পদ ও অনার্সের শিক্ষক রয়েছেন।
এইচ,এস,সি ডিগ্রী ও অনার্সসহ ৮টি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় কপিলমুনি কলেজ কেন্দ্রে।

কপিলমুনি কলেজের অধ্যক্ষ মো: হাবিবুল্যাহ বাহার জানান, একটি কলেজ জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় সকল স্তর পরিপূর্ণ থাকলেও তারা বরাবর বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সর্বশেষ গত ১৫ জুন ২৬’ একজন প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর কলেজটি সরকারিকরণের আবেদন করেন। যার কলেজ স্মারক নং-০৯/২২৪/২০২৬। এছাড়া কলেজটি সরকারিকরণের জন্য পৃথক ডিও দিয়েছেন, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাও: আবুল কালাম আজাদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি, পাইকগাছা থানা বিএনপি’র সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক ডা: আব্দুল মজিদ ও সদস্য সচিব ইমদাদুল হক। (আরও বিস্তারিত আসছে)