- স্পোর্টস ডেস্ক ::
আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত হননি ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার চেফেরিন। ফিফার একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এই পদক্ষেপ নেন। টেলিগ্রাফ স্পোর্টের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে তার এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর আগে সেই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান, এরপরই এই সিদ্ধান্ত আসে।
এই ঘটনাই চেফেরিনের ক্ষোভের প্রধান কারণ হলেও এর আগে থেকেই ফিফার কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন। সোমালিয়ার নাগরিক হওয়ায় আফ্রিকার শীর্ষ রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেয়ার ঘটনাও তাকে ক্ষুব্ধ করে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রভাব ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের ওপর পড়ায়ও আপত্তি জানান তিনি। তার মতে, দুই দেশের রাজনৈতিক বা সামরিক সংঘাতের কোনো প্রভাব বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে থাকা উচিত নয়।
বিশ্বকাপের আগে ম্যাচের টিকিটের অতিরিক্ত মূল্য নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন চেফেরিন। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে চালু হওয়া কয়েকটি নতুন নিয়মেরও বিরোধিতা করে উয়েফা। এর মধ্যে ছিল; বিতর্কের সময় মুখ ঢেকে কথা বললে লাল কার্ড এবং রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে গেলে একই শাস্তি দেয়ার বিধান।
তবে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ‘শেষ সীমা’ হিসেবে দেখছে উয়েফা। এ বিষয়ে সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘লাল কার্ড পাওয়ার পর এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের নিয়ম এক বছরের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত রেড লাইন অতিক্রম করেছে। ফুটবল, অন্য সব খেলার মতোই, নির্দিষ্ট নিয়মের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সেই নিয়মই সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে। কিছু নিয়মের ব্যাখ্যার সুযোগ থাকতে পারে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে তা নয়। লাল কার্ডের পর অন্তত এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কোনো বিবেচনাধীন বিষয় নয়। এটি বিধিমালায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং চলমান টুর্নামেন্টের মাঝপথে এর ব্যতিক্রম করার সুযোগ নেই। এর আগে একই পরিস্থিতিতে পড়া অন্য খেলোয়াড়রা নিয়ম মেনেই নিষেধাজ্ঞা ভোগ করেছেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিয়মের নিশ্চয়তা যদি তার রক্ষকদের মাধ্যমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে খেলাটির সততা ও প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি চলমান টুর্নামেন্টে এটি এমন একটি নজির তৈরি করবে, যেখানে ভবিষ্যতে একই ধরনের সব ঘটনায় সমান সুবিধা দাবি করা হবে, যা প্রতিযোগিতার জন্য ক্ষতিকর। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, কারণ এটি একই নিয়মে সারা বিশ্বে পরিচালিত হয়। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের প্রতিটি সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ফুটবলে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই নজিরবিহীন, দুর্বোধ্য ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তে আমরা গভীর বিস্ময় প্রকাশ করছি।’