- মোহাঃ হুমায়ুন কবির::
খুলনার কয়রা উপজেলার পল্লীমঙ্গল এলাকায় ঝর্ণা নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝর্ণা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং এর আগেও কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
নিহত ঝর্ণার বড় মেয়ে খাদিজার বয়স ৮ বছর। ছোট ছেলে হুসাইনের বয়স মাত্র ৮ মাস। মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সন্তানকে ঘিরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঝর্ণা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে দাবি করেছেন তার বড় ভাই মাহফুজুর রহমান মিন্টু। তার ভাষ্য, এর আগে দুই থেকে তিনবার ঝর্ণা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
নিহতের স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বুধবার বৃষ্টির কারণে তারা মেলায় যেতে পারেননি। বৃহস্পতিবার মেলায় যাওয়ার কথা ছিল তাদের। দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।
জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টার দিকে ঝর্ণা বড় মেয়েকে প্রস্রাব করাতে যাওয়ার কথা বলে রান্নাঘরের দিকে যান। কিছুক্ষণ পর তাদের ৮ মাস বয়সী ছেলে হুসাইন কান্নাকাটি শুরু করে। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা ঝর্ণাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে রান্নাঘরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে খবর দেওয়া হলে কয়রা থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।
কয়রা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় কয়রা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।