- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
পাইকগাছা কপিলমুনিতে ডাঙ্গা শ্রেণির জমি কিনে ইমারত নির্মাণের সময় কবরস্থানের সম্পত্তির অভিযোগ তুলে মানববন্ধনসহ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। জমির মালিকসহ ভূমি প্রশাসন বলছেন নির্দ্ধারিত জায়গাটি ডাঙ্গা শ্রেণির, অন্যদিকে স্থানীয় অপর পক্ষের দাবি তা কবরস্থানের! এমন অবস্থায় টাকা দিয়ে জমি কিনে ঘরের কাজ বন্ধ রাখায় রীতিমত বিপাকে পড়েছেন, স্থানীয় যশোর গ্লাস হাউজের স্বত্তাধিকারী ও পার্শ্ববর্তী কাজীমুছা গ্রামের মো: আসাদুল ইসলাম গোলদার।
এদিকে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্যে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
জমি মালিকসহ ভূক্তভোগী আসাদুল গোলদার জানান, স্থানীয় আবুল সরদার দিং এর ওয়ারেশ আকবর হোসেন খোকন ও জাহিদ হোসেনদের কাছ থেকে কপিলমুনি সদরের নগরশ্ররিামপুর মৌজার সিএস ও এসএ ৯১ খতিয়ানের ৪৫৬ দাগের ০.৪০ একর সম্পত্তির মধ্য থেকে বিআরএস ৪০৪ খতিয়ানের ১২৮৭ ও বিআরএস ৪০৫ খতিয়ানের ১২৮৪ দাগের মধ্য থেকে যথাক্রমে ০.০৪৪ একর ও ০.০২৯৮ একর মোট ০.০৩৩৮ একর জমি খরিদপূর্বক সেখানে সামনে দোকানঘর ও পেছনে আবাসিক নির্মাাণেরর কাজ করছিলেন তিনি। যার দলিল নং ৩০৫১। তারিখ-২২/১০/২৫ ইং।
তবে স্থানীয়দের অপর একটি পক্ষের দাবি, আসাদুলের খরিদা সম্পত্তি কবরস্থানের। প্রকৃতপক্ষে সেখানকার ০.৩৫৫০ একর সম্পত্তির ৪৯০ অংশের ০.১৭৪০ একর সম্পত্তি কবরস্থান শ্রেণিতে ব্যাক্তি মালিকানায় রেকর্ড প্রস্তুত হয়েছে। যা, আসাদুলের খরিদা খতিয়ানের বাইরের।
ধারণা করা হচ্ছে, একটি মহল আসাদুলের ঘর নির্মাণে বাঁধা সৃষ্টি করতে স্থানীয়দের ভূল বুঝিয়ে মানববন্ধনসহ নানামুখী আন্দোলন করাচ্ছে।
উল্লেখ্য, কবরস্থানের জমিতে ইমারত নির্মাণের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় কপিলমুনি বাজারের প্রধান সড়কে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন, কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) বণিক সমিতির সদস্য সচিব ও ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি শেখ আনোয়ারুল ইসলাম, হরিঢালী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাঃ সম্পাদক সরদার তোফাজ্জেল হোসেন, আঃ সাত্তার ফকির, মাসুম হাজরা, শেখ ইকবল হোসেন, মজিদ গাজী, জলিল বিশ্বাস সহ অন্যান্যরা।
এব্যাপারে স্থানীয় কপিলমুনি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (ইউএলএও) কৃষ্ণ পদ দাশ জানান, অভিযুক্ত আসাদুলের নির্মাণাধীন ঘরের জায়গা কবরস্থানের রেকর্ডীয় জায়গার বাইরে অবস্থিত। মূলত আসাদুল ইসলামের খরিদা সম্পত্তি ডিপি ৪০৪ খতিয়ানের ১২৮৭ ও ডিপি ৪০৫ খতিয়ানের ১২৮৪ দাগের ডাঙ্গা ও দোকান শ্রেণির অন্তর্ভূক্ত।
ভূক্তভোগী আসাদুল গোলদারসহ জমি মালিকরা তার নির্মাণকাজ চালু করতে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে উপজেলা ভূমি প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।