যেহেতু আমি দীর্ঘদিন যাবত মিডিয়ার সাথে কাজ করি সে কারণে মিডিয়াকে আমি বন্ধু ভাবি। আমার দেশের কিছু “মিডিয়া বন্ধু মহা কালা জাদু” জানে। এই মহা কালা জাদুর এত ক্ষমতা যে দীর্ঘ দেড় যুগ শত্রু থেকে মহাশত্রু হয়েও হঠাৎ করে “ছু মন্ত্র ছু” বলে ভোল পাল্টে শত্রু থেকে বন্ধু হওয়া যায়। আকস্মিক মিডিয়ার মহা কালা জাদুর কথা কেন বললাম আজকের লেখায় বিস্তারিত আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করব। সবাই যে আমার লেখার সাথে একমত পোষণ করবেন এমনটি আশা করাও বোকামি তবুও আমি বলব কিছু মিডিয়া অবশ্যই “মহা কালা জাদু” জানে।
যেমন ধরেন গত কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করে এসেছেন। সে সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার কিছু উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ” আমার বন্ধু মহা জাদু জানে” গানটি সংযুক্ত করে পোস্ট করেন। মুহূর্তের মধ্যে এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যেমন খুশি হয়ে সুন্দর একটি গান যুক্ত করে তার খুশি হওয়ার ভাবাবেগ প্রকাশ করেন, তেমনি আমাদের দেশের কিছু মিডিয়া বা গণমাধ্যম আছে যারা সময় বুঝে বন্ধুর কোলে চড়ে বসে আবার সুযোগ বুঝে সেই বন্ধুর বুকে ছুরি চালাতেও দ্বিধা করে না। এমন ছুরির আঘাত খেয়ে ১৮-২০ বছর যথাযন্ত্রণা সহ্য করে আবার যখন সুস্থ হয়ে রাজাসন গ্রহণ করে তখনই ছুরি মারা ওই ছদ্মবেশী বন্ধুগুলো কেমন করে যেন আবারো বন্ধু হয়ে যায়। অথচ তাদের থাকার কথা ছিল আস্তাকুড়ে।
আরো স্পষ্ট করে যদি বলি তাহলে বলতে হবে বাংলাদেশে হাতেগোনা কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বাদে বাকি সবাই আওয়ামী, বাম ও বন্ধু নামের প্রতিবেশী দেশের প্রেমে দেওয়ানা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা আজকের বিএনপি বা বর্তমান মহান সংসদের বিরোধীদল তথা জামাতে ইসলামীকে এই ছদ্মবেশী মিডিয়া গুলো কখনো ভালবাসে না বা এই দুটি দলকে নিয়ে পজেটিভ ধারণা কোন সময়ের জন্য পোষণ করে না। সময় সুযোগ পেলে কিভাবে বিএনপি-জামাতকে হেয় প্রতিপন্ন করা যায় তা নিয়ে তাদের কর্মতৎপরতা। একটু ভাবলে আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে, বিএনপি গঠন হওয়ার পর থেকে ইসলামপন্থী করে শুধুই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করাই হচ্ছে এই মিডিয়া গুলোর কাজ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিখাদ দেশ প্রেম,প্রবাদপ্রতিম সততা,আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা, দেশ গড়ার অদম্য ইচ্ছা শক্তির স্বীকৃতি এই মিডিয়া গোষ্ঠীর কাছ থেকে কখনো মেলেনি। এমনকি দেশের গণতন্ত্র পুনঃ উদ্ধারে সর্বাজ্ঞে ভূমিকা রাখা আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এই মিডিয়া গোষ্ঠী ছলে বলে কলে কৌশলে বিএনপি সরকারকে সর্বদা বিপদে ফেলানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল। বিভিন্ন সময়ে বিএনপি এই চক্রান্তকারী মিডিয়া গোষ্ঠীর দ্বারা হেনস্তার শিকার হলেও খুব বেশি শিক্ষা লাভ করেছে বলে অন্ততপক্ষে আমার মনে হয় না। এটা হয়তো এ দলের উদারনীতির বহিঃপ্রকাশও হতে পারে।
এমনিতেই বিএনপির মিডিয়ার প্রতি নিজেরে একটু খেয়ালীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ক্ষমতায় থাকার পরেও বিএনপি উল্লেখযোগ্য কোন মিডিয়া গড়ে তুলতে পারেনি। এ বিষয়ে আরো স্পষ্ট করে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের “মিডিয়ার নতুন মিত্র নিয়ে বিপাকে বিএনপি” শিরোনামে লেখা মন্তব্য প্রতিবেদনে একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন,”২০০৪ সালে বিএনপিপন্থী প্রকৌশলীদের সংগঠন এ্যাবে যুক্ত থাকা অবস্থায় সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির দাওয়াত দিতে কয়েকজন প্রকৌশলী সন্ধ্যায় বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মান্নান ভূঁইয়ার মিন্টু রোডের ভবনে গিয়েছিলাম। মনে পড়ে সেদিনকার প্রকৌশলীদের দলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী শাহরীন ইসলাম তুহিন এবং রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু উপস্থিত ছিলেন। মহাসচিব এর সঙ্গে আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে আইইবির বেশ জনপ্রিয় নেতা প্রকৌশলী মঞ্জুর মোর্শেদ খানিকটা ক্ষোভের সূত্রের মন্তব্য করে বললেন স্যার,বিএনপি’র পক্ষে কোন সংবাদপত্র নেই। এই গুরুতর সমস্যা সমাধানের জন্য দল তেমন কিছুই করছো না। মরহুম মান্নান ভুঁইয়ার সেদিনকার জবাবে আমরা সবাই বিস্মিত হয়েছিলাম। মান্নান ভূইয়া বেশ রাগান্বিত কন্ঠে বললেন সরকার ভালো কাজ করলে মিডিয়ার প্রচারের প্রয়োজন নেই। জনগণ অপপ্রচার উপেক্ষা করেই বিএনপিকে সমর্থন করবে। বাম রাজনীতি থেকে বিএনপিতে আসা মান্নান ভাইয়ার কাছ থেকে এমন অরাজনৈতিক বক্তব্য অপ্রত্যাশিত ছিল।”
সেদিন সময়মতো মিডিয়ার অপপ্রচারের বস্তুনিষ্ঠ ও কার্যকর উত্তর না দেওয়ার কাফফারা বিএনপিকে ঠিক মতো দিতে হয়েছে। ছদ্দবেশী বন্ধু মিডিয়া গুলো এমন ভাবে ছুরিকাঘাত করেছে যে দেশে রচনা হলো ১/১১ মত পরিস্থিতি। তারপর কেটে গেল দীর্ঘ ১৭ টি বসন্ত। অবশ্যই লম্বা সময়ের মধ্যে যে মিডিয়া গুলো আওয়ামী লীগের অপপ্রচার ও শোষণের সামনে বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করে গেছে তাদের মধ্যে দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক দিনকাল ছিল শীর্ষে। তবে যায়যায়দিন,দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক নয়াদিগন্ত,মানবজমিন সহ কয়েকটা পত্রিকা আওয়ামী লীগের মিথ্যা বয়ানের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করতে না পারলেও মৃদু চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল।
এর মাঝে দৈনিক দিনকাল বিএনপি ও দৈনিক সংগ্রাম জামাতের সরাসরি মুখপত্র হওয়ার কারণে পাঠকপ্রিয়তায় কখনো শীর্ষ অবস্থান করতে পারেনি। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল অব্দি দৈনিক আমার দেশ হাসিনা ইজমের বিরুদ্ধে লড়ায় করার ফল হিসেবে এক পর্যায় সরকার কৌশলে আমার দেশ বন্ধ করতে বাধ্য করে। বলা যায় প্রায় একই কায়দায় বন্ধ হয়ে যায় দৈনিক যায়যায়দিন। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানে ভাগ্যে জোটে কারাবাস। দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয় যায়যায়দিনে সম্পাদক শফিক রেহমান। আওয়ামী লীগের এসময়ের আমি নিজেই দৈনিক দিনকালে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে ঢাকাতে কর্মরত থাকার কারণে অনেক কিছুর চাক্ষুষ সাক্ষী হওয়ার মত সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য যাই বলেন আমার হয়েছিল। বেতন ভাতা ঠিকঠাক মতো না পাওয়ার পরও শুধুমাত্র বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের একজন প্রেমিক হওয়ার কারণে অনেক সাংবাদিককে পরিবার পরিজন নিয়ে কতই না কষ্ট করতে হয়েছে রাজধানীর বুকে সে কথা বা ব্যথা শুধু তারাই জানে অন্য কারোর পক্ষে এটা অনুভব করা আদৌ সম্ভব না। আজকের বিএনপি’র অনেক নেতাই হয়তো এই ইতিহাস মনে রাখেনি অথবা জানেই না। এর পরবর্তীকালে বিএনপি’র মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত দৈনিক দিনকাল বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্বরোচিত হামলা চালানো হয় দৈনিক সংগ্রামের অফিসে। লাঞ্ছিত করা হয় বাংলাদেশের অন্যতম বর্ষিয়ান ও বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবুল আসাদের উপর। সেই ছবিগুলো এখনো হৃদয় পটে মাঝে মাঝে জ্বল জ্বল করে ওঠে। আওয়ামী লীগ শাসন আমলে বন্ধ হয়ে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান ও দিগন্ত টেলিভিশন। বেকার হয়ে পড়ে হাজার হাজার সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সাথে জড়িত থাকা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। আর এসব কাজের সাথে যারা যুক্ত ছিলেন তারা অধিকাংশই বাম ঘরোয়ান গণমাধ্যম কর্মী অথবা ভারতীয় আস্থাভাজ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।
চাকরিচ্যুত হওয়া বা বিভিন্নভাবে ফ্যাসিস্ট দ্বারা নির্যাতিত হওয়া অধিকাংশ মিডিয়ার মানুষের কপালে জোটেনি চাকুরী। কেননা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী মিডিয়া হাউজের বড় অভাব ছিল। যা আজও আছে, ভবিষ্যতে হবে কিনা তাও জানিনা। তবুও এই চাকুরী হারানো, নির্যাতনের শিকার হওয়া গণমাধ্যম কর্মী গুলো অধীর অপেক্ষায় ছিল আবারো যদি বাংলার ভাগ্য আকাশ থেকে দুর্যোগের ঘনঘটা অপসারিত হয় সেদিন হয়তো এসব মানুষদের মূল্যায়ন হবে। বর্তমান সরকার গঠনের পর কতটুকু ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে তার বিচার-বিশ্লেষণ করার দায়িত্ব পাঠকদের উপরে ছেড়ে দিলাম।
একবুক আশা নিয়ে ছিলাম বিএনপি অতীতের পিছন ও সামনে থেকে ছুরি মারা ছদ্মবেশী বন্ধু গুলোকে চিহ্নিত করে তাদের দমন করবে নচেৎ অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার জন্য নতুন নতুন মিডিয়া হাউস গঠনে উদ্যোগী হবে। কিন্তু বাস্তব প্রেক্ষাপটে দেখা গেল বিএনপি সরকার গঠন করার পর থেকে যে সমস্ত ফ্যাসিবাদের দোসরা ১/১১ মতো ঘটনার কুশিলব ছিল। যারা ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সরকারের কথা ও কাজ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর ছিল তাদের উপরে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারো বন্ধু ভেবে আলিঙ্গন করে বুকে টেনে নিয়েছে। উদারতার পরিচয় দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকদের সাথে একাধিক আলাপচারিতায় বিএনপির প্রতি বৈরী সংবাদ মাধ্যমের ভুলে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সময়ের সঙ্গে একটি দলের রাজনৈতিক কৌশলের আমাদের ভিন্ন ধারার পত্রিকা গুলোর কর্মীদের মনঃক্ষুণ্ন হওয়ার কোনো কারণ ছিল না যদি কিনা সত্যিকার অর্থে ওই সমস্ত বাম ঘরোয়ানার কথিত সুশীলরা মন থেকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিদ্বেষী না হতো। মাঝেমধ্যে ছদ্মবেশীরা বন্ধুর মতো আচরণ করলেও অবশ্য হুট হাট করে তাদের আসল চেহারা দেখিয়ে ফেলছে। যেমন ধরেন মন্ত্রিসভায় সাম্প্রতিক রদ বদলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উন্নতি পেয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পেয়েছেন। বদলের পরের দিন তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুনাম ধন্য (১/১১ কুশীলব) একটি পত্রিকার প্রথম পাতায় খবর ছাপা হয়। এই সংবাদের সূত্র ধরে একজন সাংবাদিক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করে বসেছেন সয়ং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে। উত্তর দিতে গিয়ে রাগান্বিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ১/১১ সময় ঐপত্রিকার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে নাম উল্লেখ ছাড়াই কটাক্ষ করেছেন। সাথে সাথে পত্রিকাটি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই বিবাদে কয়েকটি সুশীল সংগঠন ও ব্যক্তিরা ২৪ ঘন্টা পার না হতেই পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বিবাদের ঘটনাটি নিয়ে টকশোতে অনেক মন্তব্য করেছেন যে, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের পক্ষে অবস্থান নেওয়াতেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভারত পন্থী রোষানলে পড়েছেন। অনেকেই আবার প্রচার চালিয়েছেন যে ভারতীয় দালালদের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে সম্মত করতে সক্ষম না হওয়া কারনে খানিকটা তাপ প্রতিমন্ত্রীকে এখন সহ্য করতে হচ্ছে।
যাই হোক বিগত ১৭ বছর ধরে যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ লকে গলাটিপে হত্যা করে প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যবাদে সু-প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মরিয়া হয়ে গিয়েছিল তারাই আবার বর্ষা বিপ্লবের পর জাতীয়তাবাদের তকমা গায়ে লাগিয়ে বহাল তবিয়তে বাংলাদেশের মিডিয়া জগতকে নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে। এমনকি তারা অনেকাংশে সফলতাও অর্জন করে ফেলেছে। তাহলে বুঝতে হবে নিশ্চয়ই এই সমস্ত মিডিয়া বন্ধুরা “কালা জাদু জানে”। তা না হলে সদ্য বিদায়ী ফ্যাসিস্টের দোসর ও প্রতিবেশী প্রভুর পদলেহনকারী হয়েও এখনো নিজেদেরকে কিভাবে শক্তিশালী অবস্থানে অধিষ্ঠিত করে যবনিকাতে রেখেছে এই প্রশ্ন রেখে গেলাম…?