- সাতক্ষীরা প্রতিনিধি::
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম মৌতলা গ্রামের মোঃ দাউদ আলী গাজীর পুত্র আন্তর্জাতিক বাটপার,আদম ব্যবসায়ী হারুনার রশিদের খপ্পরে পড়ে কয়েকটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,হারুনার রশিদ অসহায় মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিদেশ পাঠানোর নামে তাদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার কোন বৈধ এজেন্সি না থাকলেও সে দিনের পর দিন এভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে।
আর এ সমস্ত পরিবার জমি জায়গা বিক্রি করে ও বিভিন্নভাবে ঋণ করে সন্তানকে বিদেশ পাঠাবে বলে এই হারুনের প্রলোভনে পড়ে টাকা দিচ্ছে। নামে মাত্র বিদেশ পাঠিয়ে কাউকে কোন আকামা না দিয়ে বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও হারুন রয়েছে আত্মগোপনে।
যাদেরকে সে বিদেশে পাঠিয়েছে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশের মাটিতে খেয়ে না খেয়ে কোন কাজ ছাড়াই পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
এই মানুষগুলো জমিজমা বিক্রি করে এবং মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমায়,কথা ছিল মোটা অংকের বেতনে তাদের কাজ দিবে। কাজ তো দূরের কথা তাদের কোন খোঁজও নিচ্ছে না এই প্রতারক হারুন।
বর্তমানে এই মানুষগুলো দেশেও আসতে পারছে না ঋণের দায়ে।এদিকে তাদের বাবা, মা,স্ত্রী,সন্তান খেয়ে না খেয়ে পথে পথে ঘুরছে।
ভুক্তভোগী কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রীকলা গ্রামের আলাউদ্দিন শেখ জানান,আমার ছেলে মাসুম বিল্লাহকে সৌদি আরবে মোটা অংকের বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে হারুন গত ১১ মাস আগে আমার ছেলেকে সৌদিতে পাঠায়। পরবর্তীতে এক মাস দুই মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমার ছেলেকে কোন কাজ না দেওয়ায় হারুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে বলে খুব দ্রুত কাজের ব্যবস্থা হয়ে যাবে।এভাবে প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এই হারুন আমার ছেলেকে কোন কাজ দেয়নি।বর্তমানে আমার ছেলে না খেয়ে সৌদি আরবে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই হারুন এর সাথে যোগাযোগ করলে এখন সে আমাদের হুমকি দিচ্ছে তোমার ছেলেকে আমি জানে মেরে ফেলব। আমার ছেলের কথা চিন্তা করে এই হারুনের ভয়ে আমরা কিছুই করতে পারছি না।বর্তমানে আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।
আর একজন ভুক্তভোগী পানিয়া গ্রামের আবু তালেব মোড়লের পুত্র সালাম মোড়লের স্ত্রী জানান,আমার স্বামী সালামকে এই হারুন সৌদি আরবে অনেক টাকা বেতনের চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত দুই বছর আগে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে সৌদিতে পাঠায়। আজ পর্যন্ত এই হারুন আমার স্বামীকে কোন কাজ দেয়নি।
এদিকে ৫ লাখ টাকা ঋণ করে আমার স্বামী সৌদিতে যায়। বর্তমানে দুইটা সন্তান নিয়ে আমি চরম ভাবে মানবেতার জীবন যাপন করছি।যাদের কাছ থেকে ঋণ করে আমার স্বামী বিদেশ গিয়েছিল প্রতিনিয়তই তারা বাড়িতে এসে ঋণ পরিষদের চাপ দিয়ে যাচ্ছে।এখন আমার স্বামী ও দেশে আসতে পারছে না ঋণের দায়ে,আমিও দুই সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে পথে পথে ঘুরছি। এই হারুনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সে আমাদের ফোন রিসিভ করে না। শুনেছি সে ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছে।আমরা প্রশাসনের নিকট এই প্রতারক,বাটপার,মানব পাচারকারী হারুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হারুনার রশিদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।