- শেখ দীন মাহমুদ ::
লোনা পানি অধ্যুষিত খুলনার পাইকগাছায় দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা ইজারাযোগ্য ভিপি ও সরকারি খাস সম্পত্তি উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। যোগদানের গত প্রায় এক বছরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: ফজলে রাব্বীর তত্বাবধায়নে অন্তত সাড়ে ৫ শ’ একর জমি উদ্ধার ও তার ইজারা দিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ১ কোটি ৪২ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৩০ টাকা।
বছরের পর বছর সরকারি খাতায় লিপিবদ্ধ এসব জমির অবস্থা হয়েছিল যেন, কাজীর গরু কেতাবে থাকলেও গোয়াল ছিল ফাঁকা! সুন্দরবন উপকূলীয় লোনা পানির চিংড়ী অধ্যুষিত জনপদের এসব জমির বেশির ভাগ অস্তিত্ব ধানের ক্ষেত কিংবা মাছের ঘেরে। চিহ্নিত পূর্বক উদ্ধারে নানা সংকট ও প্রতিবন্দকতায় এসব জমির রাজস্ব আদায়েও ছিল ছায়া সংকট। তবে সর্বশেষ ভূমি প্রশাসনের তৎপরতায় এমন ৫৫০ একর ভিপি (অর্পিত) জমি উদ্ধার পূর্বক দু’ অর্থ বছরে ইজারা খাতে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ১৬ হাজার ৮৩০ টাকা।
পাইকগাছা ভূমি অফিস সূত্র নিশ্চিত করে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় ভিপি লিজ মামলার আওতায় ৪ হাজার ১৫৫ একর জমি রয়েছে। এসব জমি ‘ক’ তফসিলভুক্ত সরকারি সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় এখনো বিপুল পরিমাণ ভিপি ও সরকারি খাসজমি রয়েছে। এসব জমি উদ্ধারে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এসব জমির একটি বড় অংশ বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে বেশির ভাগ রাজস্ব বিহীন ধান ও মাছ চাষ করে আসছিলেন। ঠিক এমন অবস্থায় উপজেলা ভূমি প্রশাসন সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে অভিযান শুরু করে। অতি দ্রুত এর সাফল্যও ধরা পড়ে।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পাইকগাছায় যোগদান করেন, মো: ফজলে রাব্বি। সূত্র জানায়, যোগদানের পর হতেই বিষয়টি নজরে আসার পর থেকেই সরকারি ভিপি ও খাসজমি উদ্ধারে কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
শুরুতে বিভিন্ন মৌজায় ভিপি জমির ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির তালিকা যাচাই ও পরে সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করা হয়। এরপর দখলমুক্ত করে জমিতে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকা এসব জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। উদ্ধারকৃত এসব জমির প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা ইজারা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয় উপজেলা ভূমি অফিসের পক্ষে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভিপি জমি উদ্ধারের কার্যক্রম চালিয়ে ইজারা বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় ৩৮ লাখ ২০ হাজার ৩০২ টাকা।
এরপর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে উদ্ধার করা ৫৫০ একর ভিপি জমি ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করা হয় ১ কোটি ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫২৮ টাকা।
অর্থাৎ দুই অর্থবছর মিলিয়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ১৬ হাজার ৮৩০ টাকা।
ইতোমধ্যে ইজারা গ্রহীতারা নির্দিষ্ট মেয়াদে এককালীন সরকারি রাজস্ব পরিশোধ পূর্বক সরকারি শর্ত মেনে জমির দখল বুঝে ভোগদখল করছেন।
ইজারাদার রেজাউল মোড়ল বলেন, সরকারের সব শর্ত ও নিয়ম মেনে আমরা ১০ দশমিক ৬০ একর জমি ইজারা নিয়েছি। ইজারাকৃত জমিতে শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে আছি।
ভিপি জমির পাশাপাশি গত দু’ বছরে উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ১ হাজার ৫৩৫ একর সরকারি খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস।
তবে বর্তমানে সরকার খাসজমি বন্দোবস্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তা উদ্ধার কিংবা বন্দোবস্ত প্রক্রিযা বন্ধ রয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি বলেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করায় এসব জমি অতিদ্রুত দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা জমি ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আদায়ের সুযোগ পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় সরকারি ভিপি সম্পত্তি উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বছরের পর বছর অবৈধ দখলে থাকা এসব সরকারি জমি উদ্ধারের ফলে সরকারের সম্পত্তিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্টার পাশাপাশি এসব সম্পত্তির ইজারা দিয়ে আদায় হয়েছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।