1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
এম জালাল সভাপতি, আঃ কাদির সেক্রেটারি; পূর্বপাড়া জামে মসজিদের কমিটি গঠন খুলনায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ২ সৈয়দপুরে সাংবাদিক রুহুল আমীন গাজীর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল “যত দোষ-নন্দ ঘোষ” দায় থেকে মুক্তি দিন পাইকগাছায় ৯ মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রবিউল গ্রেপ্তার শ্যামকুড় ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চান বিএনপি নেতা আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম কপিলমুনিতে নকল পণ্য কারখানায় অভিযানের পর আরোও বেপরোয়া তপন মন্ডল! বেনাপোলে ৬ দফা দাবিতে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ অবস্থান কর্মসূচি কয়রা সদর ইউনিয়ন সিএসও কমিটি পুর্ণগঠন, সভা প্রধান সায়ন্তী মুন্ডা ও সদস্য সচিব আনারুল ডাবলু  কয়রায় মনোসামাজিক সহায়তা বিষয়ক শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা

“যত দোষ-নন্দ ঘোষ” দায় থেকে মুক্তি দিন

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০৯ বার পঠিত
nondogosh-17609
  • রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল ::

গ্রাম বাংলায় অতি প্রাচীন কাল থেকে একটা প্রবাদ আছে “যত দোষ-নন্দ ঘোষ”। প্রবাদটি দিয়ে বোঝানো হয়,যে কোনো ঘটনার জন্য সব দোষ একজনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়,ভাবটা যেন এমন- তিনিই সবকিছুর জন্য দায়ী। এই প্রবাদের সূচনা হলো কিভাবে একটু জেনে আসা দরকার: এই গল্পের প্রেক্ষাপট বৃন্দাবন। মথুরাপতি কংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কৃষ্ণকে জন্মের পরপরই বৃন্দাবনের ঘোষ পল্লীতে নন্দ ঘোষের বাড়িতে রেখে আসেন বাসুদেব। তারপর সেখানেই নন্দ ঘোষ আর যশোদার কোলে বেড়ে উঠতে থাকে দেবকী পুত্র কৃষ্ণ।

ছোটবেলা থেকেই অসম্ভব দুরন্ত ছিল কৃষ্ণ। কখনো লোকের বাড়ি থেকে মাখন-ননী চুরি করে খেয়ে নিচ্ছেন,কিংবা হয়তো সরোবরে স্নান করতে নামা নারীদের পোশাক লুকিয়ে ফেলছে। এভাবে নানা ভাবে বৃন্দাবনবাসীর ঘুম হারাম করে দিচ্ছিল ছোট্ট নন্দলাল। সবাই নিজেদের নালিশ নিয়ে যেত পিতা নন্দ ঘোষের কাছে। নন্দ ঘোষও খুব মনোযোগ দিয়ে এই সমস্ত নালিশ শুনতেন। কিন্তু পুত্রকে তিনি এতই স্নেহ করতেন যে ছোট্ট কৃষ্ণের মুখের দিকে চেয়ে কিছুই বলতে পারতেন না। ফলে সব রাগ-ক্ষোভ গিয়ে পড়তো নন্দ ঘোষের উপর। বৃন্দাবনবাসী মনে করতো,এই নন্দ ঘোষের প্রশ্রয় পেয়েই এত বাড় বেড়েছে কৃষ্ণের। ঘোষ মশাইও অম্লান বদনে মাথা পেতে নিতেন সমস্ত দোষ। আর সেখান থেকেই এল ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’। যখন কেউ কোনো ঘটনার জন্য সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে দায়ী না করে,কেবল একজনের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়, তখন এই প্রবাদটি ব্যবহার করা হয়।

বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থা দৃষ্টে প্রবাদটি কিছু মানুষের কাছে খুবই যুক্তি সংগত হয়ে গেছে। চারিদিকে যা কিছু হচ্ছে তার জন্য দায়ী করা হচ্ছে বিশেষ একজনকে। অথচ তিনি এসব ঘটনার ধারে পাশে নেই। এমনকি তার সম্পৃক্ততা নজরে আসার কোন কারনও নেই। তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দুরে ছিলেন। এরপরেও ভালো কোন কাজে তার কর্তৃত্ব বা প্রশংসার বেলায় কার্পণ্যতা দেখালেও ধারাবাহিক ভাবে দেশের চলমান সকল অনৈতিক বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য তাকেই দায়ী করা হয়েছিল। এরপরও তাকে নন্দিত না করে তাকে নিন্দিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল যা দেশে ফিরে এসে তিনি নিজেকে দেশের মানুষের কল্যানে নিযুক্ত করার পরেও এই তথা কথিত সুশীল নামের বিকলঙ্গরা থেমে নেই। তাও আবার অপপ্রচারে নেমেছে আদা-জল খেয়ে। এতক্ষণে হয়তো আপনি বুঝতে পেরেছেন আমি কার কথা বলছি। জি আপনার অনুমান সঠিক আমি বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের কথাই বলছি। এই দোষ দেওয়ার থিউরি বিএনপি সরকার গঠন করার পর শুরু হয়েছে এমনটা নয় এটা শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বর্ষা বিপ্লবের পর থেকেই।

এই ধরুন অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে রাজধানীর মিটফোর্ড (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে কয়েকজন ব্যক্তি। (কোন হত্যা কান্ড আমাদের করো কাম্য নয়)। তারা কারা? তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কি? হত্যা কান্ডের নেপথ্যের কারন কি? তা উদঘাটনের আগেই সব দোষ নন্দ ঘোষের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে শুরু হয়েছিল নন্দ ঘোষের বিরুদ্ধে মিছিল। নন্দ ঘোষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ।

একই শাসনামলে দেশের কোন অঞ্চলে স্বৈরাচারের কোন দোষরকে জনগণ ধরে পিটিয়েছে বা তার বিচার বা পদত্যাগ দাবী করছেন তখনি আওয়াজ উঠছে সেখানে মব জাস্টিস হচ্ছে। আর এই মব জাস্টিসের জন্য নাকি নন্দ ঘোষ দায়ী। বলা হয়েছিল কয়েক হাজার মাইল দুরে থেকে তিনিই নাকি এসব করাচ্ছেন।

কোথাও কোন চাঁদাবাজী হচ্ছে সেখানে কোন কারনে বিএনপির কোন নেতার সম্পৃক্ততা থাকলেই তারও দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে মিঃ রহমানের উপর। ফুটপাত থেকে কেউ চাদা তুলছেন তার দায়ভারও চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার উপর। কেউ গায়ের জোরে কারো সম্পত্তি বা সম্পদ দখল করছেন তারও দোষ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার উপর।

এক্ষনে কিছু প্রশ্নের উদ্বেগ হওয়া আবশ্যক নয় কি? তখনকার বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন অন্তবর্তীকালীন সরকার সুতরাং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ করা কথা ছিল তৎকালীন সরকারের। কোন ধরনের অপ্রতাশিত ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিহত করার দায়-দায়িত্ব যখন যিনি ক্ষমতায় থাকবেন তাকে নিতে হবে এটাইতো নিয়ম। দেশের জনগনের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। তেমনি সরকারের নিকট থেকে নিজের জীবনের নিরাপত্তা পাওয়া প্রতিটি নাগরীকের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু তখন আমরা কি দেখছি? সরকার তার নিজের দায়-দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালনতো করতে পারেননি বরং একজন উপদেষ্টা পাথরের যুগে আমাদেরকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করছিলেন। এরপরও তার কোন দোষ ছিল না। দোষ সব মিঃ রহমান সাহেবের।

অথচ এই মানুষটির উপর ১/১১ সরকার কি পরিমান অত্যাচার,নির্যাতন করেছেন তা আমাদের সবার জানা। তিনি দেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হওয়ার পরও তাকে বেদম প্রহার করা হয়েছিল তখন কিন্তু কেউ বলেনি তার বিরুদ্ধে মব জাস্টিস হচ্ছে। সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করে তাকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। সেদিন কিন্তু কেউ বলেনি তার বিরুদ্ধে মব জাস্টিস হচ্ছে। একমাত্র ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার লাশ পর্যন্ত দেখতে পারেননি, পারেননি দাফনে অংশ গ্রহণ করতে তখন কিন্তু কেউ বলেনি তার বিরুদ্ধে মব জাস্টিস হচ্ছে। মানুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ “মা”। দেশের মাটিতে রেখে যাওয়া এই মাকে যখন এক কাপড়ে ক্যান্টেমেন্টের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিলো সেদিন কিন্তু আজকের মব জাস্টিস, মব জাস্টিস করে গলা ফাটানোরা কেউ কোন কথা বলেনি। সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা মামলায় বেগম বেগম খালেদা জিয়াকে বৃদ্ধ বয়সে সাজা দিয়ে জেল খানায় পাঠানো হয় তখন কিছু মব জাস্টিস বলে টু শব্দ হয়নি।

লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে প্রায় ১৬-১৭ বছর যে মানুষটি এত মানুষিক যন্ত্রণা বুকে চাপা রেখে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি কনার হিসেব রেখেছেন তিনিই এখন নন্দ ঘোষে তকমা পেয়েছেন। এর চেয়ে বড় তামাশা আর কি হতে পারে। এত ত্যাগ তিতিক্ষার পর তাকে কেন নন্দ ঘোষ হিসেবে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবিক অর্থে ২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে হাজার হাজার মাইল দুরে থেকে যে মানুষটি চাঁদাবাজী,দখলবাজী,মব জাস্টিস সহ সকল অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সব সময় কঠোর থেকেছেন । অন্যায় অত্যাচারে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তিনি বহিষ্কার করেছেন কয়েক হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারকে এসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রতিটি দিন কোন না কোন ভাবে তিনি কঠোর বার্তা দিচ্ছেন নেতাকর্মীদের। তারপরও কেন তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে। এমন প্রশ্ন মনে জাগ্রত হওয়া কি খুবই স্বাভাবিক।

সেক্ষেত্রে একটু আলোকপাত করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতের চলে যাওয়ার পর দেশে একধরনের সস্তি ফিরে আসার প্রত্যাশা করেছিল সাধারণ মানুষ কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব নাকি এক সময় বলেছিলেন “এতদিন খাইছো তোমরা,এখন থেকে খাইবো আমাগো লোক,লাল ঘোড়া দাবড়াইয়া দিমু”। সত্যি বলতে ৫ আগষ্টের পর দেখা গেলে আগের মত চাঁদাবাজী,দখলবাজী সবই চলছে শুধু বদলেছে চেয়ারে থাকা মানুষ গুলো। এমন পরিস্থিতি দেখে অনেককেই রসিকতা করে বলতে শুনেছি “কামের কাম কিছুই হয়নি শুধু শূন্য স্থান পুরণ হইছে”। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলার বেশ অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুৎ সংকট প্রকট হয়েছে। দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সামনে পিছনে আলোচনা না করে একজনের উপর সব দায় চাপিয়ে দেওয়া কি যুক্তি সংগত হবে। হ্যাঁ তিনি যেহেতু সরকার প্রধান হিসেবে দায়দায়িত্ব এড়াতে পারেন না ঠিকই কিন্তু বৈশ্বিক বিষয়টি অস্বীকার করা একজন বিচক্ষণ মানুষের কোন সুযোগ থাকে না। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জন্য একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী-এমপি-সচিব-প্রশাসন কত ব্যক্তি থাকেন উনারা যদি নিজের দায়িত্ব টুকু সঠিক ও সাবলীলভাবে পালন করেন সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে বোধ করি এই দোষের ভাগী হতে হয় না। তেমনি আবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেল গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে অনেকটাই আমদানি নির্ভর সরকারের কিছুই করার থাকেনা। বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতির অঘোষিত যে স্নেহযুদ্ধ চলছে সেক্ষেত্রে আমাদের মতো দেশের সরকার গুলো তালমিলিয়ে টিকে থাকা অনেকটাই কঠিন। তাছাড়া বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন খাতে পাহাড় পরিমান দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মেরুদণ্ডহীন কেঁচো বানিয়ে রেখে যাওয়ার পরে দায়িত্ব নেওয়া একটি সরকারকে আমরা কোন অবস্থায় সময় দিতে চায় না এটা আদৌ হওয়া উচিত কি..?

এলেখার অন্তিম প্রান্তে এসে আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য বিএনপির সর্বোচ্চ হাই কমান্ডে যে সব সাহেবেরা আছেন উনাদের কাছে আবেদন-নিবেদন একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলে আপনি-আমি সবাই বুঝতে পারবো আওয়ামী লীগের যাবতীয় ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তিনি বিগত দীর্ঘ দেড় যুগ বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। অথচ আওয়ামী লীগের পতনের(২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী বিএনপির ক্ষমতা গ্রহণ) দুই বছর না যেতেই বিএনপির বিরুদ্ধে মানুষ কেন আজ রাজপথ আসার সুযোগ পাচ্ছে। ধরে নিলাম এখনো অপশক্তি দেশটাকে অশান্ত করার জন্য নানা রকম চক্রান্ত করে যাচ্ছে। ভিনদেশী ইনভেস্ট আসছে। নানা ধরনের ফাঁদ পাতা হচ্ছে। এসব কিছু লোকজন বুঝতে বা অনুমান করতে পারলে আপনারা বুঝতে পারছেন না কেন? আর যদি বুঝে থাকেন তাহলে আপনারা কেন এগুলো ঠেকানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না? কেন চাঁদাবাজ,দখলবাজদের সম্মেলিত ভাবে মোকাবিলা করছেন না? দলীয় ভাবে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কেন গঠন করছেন না? রাজনৈতিক নেতা হবেন অথচ কূটনৈতিক চাল মোকাবিলা করতে পারবেন না। দলীয় নেতাকর্মীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মূল্যায়ন করতে পারবেন না। কোন কোন কর্মী চাঁদাবাজী বা দখলবাজী করছে তাকে চিহ্নিত করতে পারছেন না। যারা ট্রাক স্টান্ড, টেম্পু স্টান্ড,বাস স্টান্ড,গরুর হাটে,সড়কে,বাজারঘাটে অপকর্মে মজেছেন তাদের সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। কেন প্রশাসনের হাতে সোপর্দ করতে অক্ষম হচ্ছেন। কখনো আবার প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে থানা ঘেরাও করছে। প্রশাসন কে হুমকি দিচ্ছে। তাহলে কি ধরে নিতে হবে নাকি শস্যর ভিতরে ভুত। আর সত্যিই যদি শস্যর ভিতর ভূত থাকে তাহলে ঢাকায় বসে একা তারেক রহমান সাহেব আপনাদের কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন। আপনারাতো নেতার কথাই শুনছেন না। এক কথায় বলবো তারেক রহমানের মত একজন পোড় খাওয়া নেতার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা যেটুকু ভাটা পড়েছে বা পড়ছে কার জন্য? এরজন্য দেশে বিএনপির মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কাল সাপ গুলো দায়ী। আর এই কাল সাপকে অচিরেই চিহ্নিত করতে না পারলে যে ক্ষতি হবে তার খেসারত কিন্তু জনাব রহমান সাহেব একা দিবেন এমন ভাবার কোন কারন নেই। সর্বাগ্রে আপনাকে-আমাকে সবাইকে দিতে হবে। মনে রাখবেন একবার সূর্য ডুবে গিয়ে সৃষ্ট অমাবস্যার আধার কাটতে সময় লেগেছে ১৭ বছর। আবারও যদি নবরাগে উদিত হওয়া সূর্য ডুবে যায় তাহলে ৩৪ বছরেও আলোর মুখ দেখা হবে দুরহ ব্যাপার। এছাড়াও মনে রাখা জরুরী যাদের রক্তের উপর দাড়িয়ে স্বাধীনতার সাধ নতুন করে গ্রহণ করছেন সেই সমস্ত আত্মা গুলো আপনাদের কর্মকান্ড দেখে পরপারে বসে তাদের রেখে যাওয়া প্রজন্মের কানে যদি ফিসফিস করে বলে তোরা জেগে ওঠ তাহলে কিন্তু পালানোর পথ খুঁজে পাওয়া কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়বে।

যবনিকা ঘটানোর আগে এতটুকুই বলবো বিএনপির মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কাল সাপ গুলো সুস্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত করুন যাদের কারনে তারেক রহমান সাহেবের গায়ে আজ নন্দ ঘোষের তকমা লাগানো হচ্ছে। বিনীত অনুরোধ কাল সাপকে অচিরেই চিহ্নিত করে চিরকালের জন্য বহিষ্কার করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া ও মাটি মানুষের নেত্রী, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মাতৃস্নেহে গড়া বিএনপিকে জনগণের দল হিসেবে পুনঃ প্রতিষ্ঠায় মনস্তাত্ত্বিক আন্দোলনে শরীক হয়ে বিনা দোষে দোষের ভাগী হওয়া থেকে তারেক রহমানকে মুক্ত করতে ঐক্যবন্ধ ভাবে সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে দলীয় আন্দোলন গড়ে তুলুন। কেননা সুশীল নামের কিছু বিকলাঙ্গরা বসে আছে বিএনপিকে বিশ্ববাসীর কাছে পচানোর জন্য। আর তা যদি না হয় তাহলে হলে “সপ্তমীতে বিসর্জন অনিবার্য”।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
ইমেইল : rabidchanchall@yahoo.com

17422

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর