নিজস্ব প্রতিবেদক ::
সাতক্ষীরার তালায় স্থানীয় সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপুকে ভ্রাম্যমান আদালতে দন্ডাদেশ দিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনের মুখে জামিন পেয়েছেন ঘটনার শিকার সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপু। এরপর সংশ্লিষ্ট ইউএনও শেখ মো: রাসেলের আমলনামা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় তথ্যবহুল সংবাদ অব্যাহত রয়েছে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা ইউএনও নিজের অপকর্ম আঁড়াল করতে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় সরকার পরিষদের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের সম্পৃক্ত করে প্রশাসনের উর্দ্ধতন মহল ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে রবিবার সকালে তালা উপজেলা সদরে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে।
এদিকে রবিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় তালা ডাক বাংলার সামনে প্রধান সড়ক আটকে আয়োজিত মানববন্ধন নিয়ে নতুন করে নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পাবলিক এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীণ মাইক লাগিয়ে মাত্র কয়েক শ’ গজ দূরে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। তারা এসময় নিজনিজ অফিসের কাজ-কর্ম ফেলে ইউএনও’র পক্ষে রাজপথে দাঁড়ায়।
অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও’র বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের খড়গ ও বদলি ঠেকাতে তিনি কতিপয় ঠিকাদার ও রাজনৈতিক কর্মী তার পক্ষে ছাপাই গাওয়াতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এ কর্মসূচী সফল করতে অর্থ যোগানের বিষয়টিও রয়েছে আলোচনায়।
মানববন্ধনে তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সফিকুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু, অধ্যাঃ গোলাম ফারুক, জাহাঙ্গীর হোসেন, কলেজ শিক্ষক নেতা অধ্যাঃ মোশারাফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষক নেতা জগদিশ হালদার, আদর্শ শিক্ষক পরিষদ নেতা অধ্যাঃ আজিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় জেএসডি নেতা মীর জিল্লুর রহমান, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হাকিম, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, ইমাম পরিষদ নেতা মাওঃ তাওহিদুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
এসময় বক্তরা বলেন, তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ রাসেলকে তালার উন্নয়নের সারথি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এসময় তারা ইউএনও’র বিরুদ্ধে মিডিয়ায় মিথ্য ও অতথ্য সরবরাহ করা হয়েছে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ করেন তারা।

প্রসঙ্গত গত ২২ এপ্রিল দুপুরে ৯ কোটি টাকা ব্যায়ে তালা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপু। এসময় তালা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী এমএম মামুন আলম তাকে তথ্য দিতে অস্বীকারপূর্বক সাংবাদিকের সাথে কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে একপর্যায়ে তাকে তার কাছে থাকা ছাতা দিয়ে শারীরীকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এসময় বিষয়টি উভয়পক্ষে ইউএনও শেখ মো: রাসেলকে জানালে তিনি কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌছে ঠিকাদারের লোক ও সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীর স্বাক্ষী নিয়ে রোকনুজ্জামানের কোন কথার ন্যুনতম কর্ণপাত না করে কালের কণ্ঠের সাংবাদিক ও অনলােই দৈনিক দীপ্তনিউজের বার্তা প্রধান রোকনুজ্জামান টিপুকে ১৭৬ ধারায় ১০ দিনের কারাদন্ডাদেশ এবং ২০০ টাকা জরিমানা করেন।
তাৎক্ষণিক এঘটনায় ফুসে উঠে তালাসহ সারা দেশের সাংবাদিক সমাজ। দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইনসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দৈনিকে ইউএনও’র ঔদত্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার জামিনের আবেদন করলে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
এরপর রবিবার একই সময় তালা উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যানারে উপজেলা পরিষদের সামনে শেখ মোঃ রাসেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে এই মাবনবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাজিব সরদারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা প্রকৌশলী রথিন্দ্র নাথ হালদারের সঞ্চালনায় সেখানে বক্তব্য রাখেন, তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন্নাহার, কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাষ কুমার দাশসহ অন্যান্যরা। সার্বিক ঘটনায় তালা উপজেলার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশময় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, অফিসের কাজ বাদ দিয়ে একজন আমলার পক্ষ নিয়ে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এভাবে রাস্তায় দাঁড়ানোর ঘটনা দুঃখজনক ও খারাপ দৃষ্টান্ত। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউএলও’রা এদিন এই মানব বন্ধনে অংশগ্রহন করায় জনসাধারণের ভোগান্তি বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।