- সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি::
উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও বনেদী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে ভাওয়াইয়া গানের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরে শেরে বাংলা সড়কে সংগঠনটির নিজস্ব ভবনে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদের সহ-সভাপতি মো. নকিবুল ইসলাম। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আমিনুল হক ও সদস্য সাংবাদিক এম ওমর ফারুক।
সংগঠনের সদস্য সাংবাদিক সাকির হোসেন বাদলের সঞ্চায়লনায় অনুষ্ঠানে সমবেত কন্ঠে দেশাত্ববোধক ভাওয়াইয়া সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এর পর ভাওয়াইয়া গান পরিবেশন করেন বেতার শিল্পী উপাধ্যক্ষ নার্জিজ বানু, টিভি ও বেতার শিল্পী প্রভাষক জাহিদুল ইসলাম, এম ওমর ফারুক, জলি, নবিউল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, নাসিম সরকার ও তসলিম।
এ ভাওয়াইয়া গানের আসরে দোতারায় ছিলেন বিনয় কুমার রাজবংশী, বাঁশিতে সোহানুর রহমান সোহান, তবলায় জাহিদ হোসেন সরকার, কাঠিঢোলে নবিউল ইসলাম, মন্দিরায় আব্দুল রহিম, হারমোনিয়ামে জাহিদুল ইসলাম সরকার ও জিপসিতে ওবায়দুল হক।
অনুষ্ঠানের সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদের সভাপতি এ্যাডভোকট এস এম ওবায়দুর রহমান, সাবেক সভাপতি ম. আ. শামীম, মহিলা সম্পাদিকা হোসনে আরা লিপি, দপ্তর সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মুকুল, কোষাধ্যক্ষ শাহ হামিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা আসরটি অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। দীর্ঘদিন পর এ অঞ্চলের এক সময়ে জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া গানের লোকজ সূরের মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো অনুষ্ঠানটি।
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক লায়ন আমিনুল হক বলেন, শিল্প সাহিত্য চর্চাকে আরো বিস্তৃত করা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকে নিয়মিত করার লক্ষ্যে এখন থেকে শিল্প সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে প্রতি মাসের শেষ শুক্রবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যদিয়ে নতুন প্রজন্ম শিল্প সাহিত্য ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে আরো গভীরভাবে যুক্ত হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
উল্লেখ্য, সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদ এ অঞ্চলের একটি প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। বিগত ১৯১১ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মোট সদস্য সংখ্যা ১২০জন। সৈয়দপুরের রাজনীতিক, সুধীজন, সমাজসেবক, চিকিৎসক, নাট্য শিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী, শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, আইনজীবী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা সংগঠনের সদস্য। স্থানীয়ভাবে এটি মিনি পালার্মেন্ট নাম অভিহিত করা হয়।